বিশ্বের প্রথম ‘কার্যকর’ কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির দিকে এগোচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগল ও আইবিএম। ১৯৮০-এর দশক থেকে বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করছেন। প্রযুক্তিটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের জ্ঞানকে একসঙ্গে ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে বড় টেক জায়ান্টগুলো ছোট পরীক্ষাগারের পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোকে বড় ও কার্যকর কম্পিউটারে রূপান্তরের প্রচেষ্টায় রয়েছে। এ অগ্রগতি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের এক নতুন যুগের শুরু করতে পারে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

উন্নত প্রযুক্তির কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত পিসির তুলনায় অনেক দ্রুত ও শক্তিশালী। এটি কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে কাজ করে, ফলে একসঙ্গে অনেক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে।

আইবিএমের কোয়ান্টাম প্রকল্পের প্রধান জে গাম্বেটা বলেন, ‘এটি (কোয়ান্টাম কম্পিউটার) এখন আর স্বপ্নের মতো মনে হয় না। আমাদের বিশ্বাস, আমরা সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছি এবং চলতি দশকের শেষ নাগাদ যন্ত্রটি তৈরি করতে সক্ষম হব।’

এর আগে গুগল গত বছর জানিয়েছিল, ২০৩০ সালের শেষের মধ্যে কোম্পানিটি বড় আকারের ও ব্যবহারযোগ্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করতে পারবে বলে আশাবাদী। গত ডিসেম্বরে কোম্পানিটি ‘উইলো’ নামে একটি শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটিং চিপ উন্মোচন করেছে।

তবে গুগল কোয়ান্টাম এআইয়ের হার্ডওয়্যার প্রধান জুলিয়ান কেলি বলেছেন, ‘সবচেয়ে কঠিন সব সমস্যা পার হওয়ার পরও কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে বড় আকারে ব্যবহার করার জন্য আরো কিছু জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যারের প্রধান অস্কার পেইন্টারের মতে, একটি ব্যবহারযোগ্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হতে এখনো ১৫-৩০ বছর সময় লাগতে পারে। বাস্তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু কঠিক স্তর ও জটিলতাও মোকাবেলা করতে হবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মূল ইউনিট হলো কিউবিট। এটি সাধারণ কম্পিউটার বিটের মতো কাজ করে। তবে শুধু ০ বা ১ নয়, একই সময়ে ০ ও ১ অবস্থায় থাকতে পারে। এজন্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অনেক জটিল হিসাব অনেক দ্রুত সময়ে সমাধান করতে পারা।