ক্রোম ও এজ ব্রাউজারের জনপ্রিয় এক্সটেনশন জেকোর ডাউনলোড সংখ্যা এরই মধ্যে এক লাখ ছাড়িয়েছে। ব্যবহারকারীদের কাছে একটি সাধারণ কালার পিকার টুল হিসেবেই পরিচিত। তবে গবেষণা বলছে, গুগলের ভেরিফায়েড ব্যাজ থাকা এক্সটেনশনটির ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে বিপজ্জনক কার্যকলাপ। কোই সিকিউরিটির বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন। খবর সাইবার নিউজ।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, কালার পিকার এক্সটেনশনটি আসলে বড় কোনো বিপজ্জনক পরিকল্পনার সূচনা। এটি ‘রেডডিরেকশন’ নামে একটি বড়সড় ব্রাউজার হাইজ্যাকিং অভিযানের অংশ। এর ক্রোম ও এজ স্টোরের ১৮টি ক্ষতিকর এক্সটেনশন মিলিয়ে ২৩ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আক্রান্ত হয়েছেন।

গবেষণা বলছে, জেকো নামের এক্সটেনশনটি শুধু রঙ বাছাইয়ের কাজই করে না, এটি ব্যবহারকারীর প্রতিটি ব্রাউজার সেশন হাইজ্যাক করে ও ওয়েবসাইট জুড়ে কার্যকলাপ ট্র্যাক করে। এমনকি এটি ব্যাকডোরও তৈরি করে, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে প্রবেশ করতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগলের ভেরিফায়েড ব্যাজ থাকা মানেই সেটি নিরাপদ হবে, এমন ধারণা ভুল। এ ধরনের এক্সটেনশন ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

যেকোনো ওয়েবসাইট থেকে রঙ বেছে নিতে সাহায্য করে কালার পিকার টুল। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা ওয়েবপেজে যেকোনো রঙের ওপর কার্সর রাখলেই সে রঙের কোড জেনে নিতে পারেন, যা ওয়েব ডিজাইন বা গ্র্যাফিক কাজের জন্য অনেক সময় প্রয়োজন হয়।

অবশ্য মাইক্রোসফট এরই মধ্যে এক্সটেনশনটি সরিয়ে দিয়েছে এবং তা নিষ্ক্রিয় করেছে। তবে গুগল এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়নি।

ক্রোম ওয়েব স্টোরে ৮০০-এর বেশি রিভিউ, গড় রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪.২ এবং ফিচারড ট্যাগসহ এটি তালিকাভুক্ত আছে।

কই সিকিউরিটির বিশ্লেষক ইদান দারডিকম্যান বলেন, ‘এটা যেনতেনভাবে বানানো কোনো সাধারণ স্ক্যাম এক্সটেনশন নয়। এটি আসলে খুব সুচিন্তিতভাবে তৈরি একটি ট্রোজান হর্স (ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার )।’