চলতি বছর শেষে বৈশ্বিক জেনারেটিভ এআইয়ের (জেনএআই) বাজার ১ হাজার ৭৪১ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। জেনএআইয়ের বেশির ভাগ বড় কোম্পানি উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত। এ বাজার থেকে প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি আয় করে অঞ্চলটি। অনলাইন রিসোর্স ও ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন শিল্পের ৩৭ শতাংশ কোম্পানি জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে।

গত কয়েক বছরে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি বেশ দ্রুত বেড়েছে। আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক সমাজে জেনএআইয়ের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বেশির ভাগ শিল্প ও ব্যবসা এরই মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বা তাদের কাজের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।

ডিমান্ডসেইজ বলছে, ২০৩২ সালের মধ্যে জেনএআইয়ের বাজার ১১ হাজার ৮০৬ কোটি ডলারে পৌঁছার আশা করা হচ্ছে। ২০২৩-৩২ সালের মধ্যে এটি প্রতি বছর ২৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে এ বাজারের আকার হতে পারে ২ হাজার ২১২ কোটি ডলার।

গত বছর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পের ৩৫ শতাংশ ব্যবসায় জেনএআই ব্যবহার করছে। এর বিপরীতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের ১৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। এছাড়া দেশটিতে জেন-জি প্রজন্মের ২৯ শতাংশ কর্মী তাদের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করেন। একইভাবে জেন-এক্স প্রজন্মের ২৮ শতাংশ কর্মী এ প্রযুক্তি গ্রহণ করেন এবং মিলেনিয়াল প্রজন্মের ২৭ শতাংশ তাদের কাজে জেনএআই ব্যবহার করেন।

২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পণ্য উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোয় এআই ব্যবহারের হার ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে ধারণা করছে ডিমান্ডসেইজ। বর্তমানে এ খাতের কোম্পানিগুলোয় সীমিত কাজের জন্য এআই ব্যবহার করছে।

চলতি বছর জেনএআইয়ের বাজারে শীর্ষ কোম্পানিগুলোর নাম তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলো হলো ওপেনএআই, মিডজার্নি, লাইট্রিকস, হাগিং ফেইস ও অন্যান্য। এসব কোম্পানি চ্যাটজিপিটি, বার্ড, জ্যাসপারএআইয়ের মতো প্রযুক্তি তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে বছরজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত ছিল চ্যাটজিপিটি। ওপেনএআইয়ের এ চ্যাটবট সবচেয়ে জনপ্রিয় জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত। উন্মোচনের দুদিনের মধ্যে ১০ লাখ ব্যবহারকারী অর্জন করে এটি। দুই মাসে এ প্লাটফর্মে যুক্ত হয় ১০ কোটি মানুষ, যেখানে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের একই সংখ্যক ব্যবহারকারী পেতে সময় লাগে নয় মাস।

অন্যদিকে ছবি তৈরির এআই প্রযুক্তি মিডজার্নি ব্যবহারকারীর দেয়া প্রম্পট অনুযায়ী ছবি তৈরি করে। এ প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীর ১৭ দশমিক ২ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের।

গত নভেম্বরে বিবিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি বছর ব্যবসায়িক খাতে জেনএআইয়ে ব্যয় বেড়েছে ৫০০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ খাতে ব্যয় ছিল ২৩০ কোটি ডলার, চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম মেনলো ভেঞ্চারস প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, কোম্পানিগুলো এআই প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করছে। তাদের মতে, শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তনে এটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বৈশ্বিক এন্টারপ্রাইজ খাতে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এখনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। এসব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোয় এন্টারপ্রাইজ থেকে হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে।