বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেডের (জেনজি) চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা বড় সংকটে পড়ছেন। বড় কোম্পানিগুলো এখন মানবসম্পদের বদলে বিনিয়োগ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে। দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউশনের (বিএসআই) সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, নতুন নিয়োগের বদলে অনেক প্রতিষ্ঠান দ্রুত বাড়াচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে এআইনির্ভর প্রযুক্তি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ প্রবণতাকে বলা হয়েছে এক ধরনের ‘জব-পক্যালিপস’ বা চাকরি বিপর্যয়।
বিএসআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেয়া সাত দেশের (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, চীন ও জাপান) ৮৫০ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর মধ্যে ৪১ শতাংশ বলেছেন, এআইয়ের মাধ্যমে তারা কর্মী সংখ্যা কমাতে পেরেছেন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার আগে তারা এখন এআই-ভিত্তিক সমাধান বিবেচনা করছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এ প্রবণতা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন দুই-পঞ্চমাংশ অংশগ্রহণকারী।
সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে জেনারেশন জেড, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া তরুণরা। অনেক প্রতিষ্ঠান মনে করে, তাদের এন্ট্রি–লেভেল কর্মীদের বেশির ভাগ কাজ এখন সহজেই এআই দিয়ে করানো সম্ভব। ফলে নতুন প্রজন্মের জন্য চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। বিএসআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুসান টেইলর মার্টিন বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার দৌড়ে মানুষ যেন পিছিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরই মধ্যে ৩৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানগবেষণা ও প্রশাসনিক কাজের মতো দায়িত্বে এআই ব্যবহার করে কিছু পদ কমিয়েছে বা বাতিল করেছে। তবে ৫৩ শতাংশ ব্যবসায়ী বিশ্বাস করেন যে কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের সুফল এর নেতিবাচক প্রভাবকে ছাপিয়ে যাবে। তাদের তিন-চতুর্থাংশ মনে করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই নতুন এআই টুল দৃশ্যমান সুবিধা দেবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
অন্যদিকে ব্রিটেনে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বেকারত্ব বেড়ে পৌঁছেছে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৭ শতাংশে। বেতন বৃদ্ধির হারও কমেছে।










