যেকোনো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এজন্য অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এ খাতে শিগগিরই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা পেতে যাচ্ছে ফ্রান্সের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গিজমোচায়নায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে নতুন একটি আইন পাস হয়েছে, যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে গোপনে সন্দেহভাজনদের সেলফোন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও জিপিএস লোকেশনে প্রবেশের সুবিধা দেবে।
আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োগযোগ্য এ নজরদারির ক্ষমতা কোনো সংবাদকর্মী, আইনজীবী বা অন্য কোনো সংবেদনশীল পেশার সঙ্গে জড়িতদের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না বলে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মঁদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের সিনেট এর আগেও বিলটির একটি সংস্করণ পাস করেছে। তবে এটি আইনে পরিণত হওয়ার আগে আইনসভার অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে বলে জানানো হয়েছে। কোনটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে সে বিষয়ে আইনে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। আর ফরাসি সরকার এর অপব্যবহার করতে পারে বিভিন্ন পরিবেশকর্মী ও গুরুতর হুমকি নয় এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, এমন শঙ্কাও রয়েছে। আইনটির সম্ভাব্য অপব্যবহারের কথা তুলে ধরেছে ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন লা কোয়াদরাতঁ দ্যু নেত। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের আইন গুরুতর অপরাধের বাইরেও ব্যবহারের উদাহরণ রয়েছে। গোপনে নজরদারির বিষয়টি নিরাপত্তা ত্রুটির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পাওয়া গেলে পুলিশ সেটি ঠিক করতে বলার বদলে এর সুযোগ নেয়ার জন্য কোনো সতর্কবার্তা নাও দিতে পারে।
বিভিন্ন ডিভাইসে ফরাসি সরকারের নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই নতুন এ আইন প্রকাশ্যে এল। নজরদারি সফটওয়্যার নির্মাতা ইসরায়েলভিত্তিক এনএসও গ্রুপ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিভিন্ন ভিন্নমতাবলম্বী, কর্মী এমনকি রাজনীতিবিদদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, এমন অভিযোগও রয়েছে।










