গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রবি। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে রেকর্ড আয় করেছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড। গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফোরজি সেবায়ও শীর্ষস্থান রাখার কথা জানিয়েছে অপারেটরটি। 

প্রতিবেদনে কোম্পানিটি জানায়, ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে রবির নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি ও ডাটা ক্যাপাসিটি বেড়েছে। সেইসঙ্গে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে অপারেটরটি। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ২ হাজার ৫১১ দশমিক ২ কোটি টাকাসহ বছর শেষে রবির মোট আয় ৯ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। যা রবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া, ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ১৪৮ দশমিক ৬ কোটি টাকা কর পরবর্তী (পিএটি) মুনাফাসহ ৩২১ কোটি টাকা পিএটি নিয়ে বছর শেষ করেছে কোম্পানিটি।

২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে রবির আয় বৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৩ সালের একই প্রান্তিকে রবির আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে ভয়েস সেবায় রবির আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ শতাংশ। অন্যদিকে ডাটা সেবায় ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে আয় বেড়েছে ২৮ দশিমক ২ শতাংশ এবং ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৩ সালের একই প্রান্তিকে ডাটা সেবায় আয় বেড়েছে ৩১ শতাংশ। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ৫৫০ কোটি টাকা মূলধনী বিনিয়োগসহ বছর শেষে রবির মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকায়।

২০২৩ সালে রবির মোট গ্রাহকের ৭৬ শতাংশের বেশি গ্রাহকই ছিলেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, যা এ খাতে সর্বোচ্চ। এছাড়াও কোম্পানিটি ১৬ হাজার ৮০০ এর বেশি ফোরজি সাইট দিয়ে ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ দেশের জনগণের জন্য ফোরজি কভারেজ নিশ্চিত করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ৪৩ লাখ নতুন গ্রাহক যোগ হওয়ার মধ্য দিয়ে রবির গ্রাহক সংখ্যা ২০২৩ সালে ৫ কোটি ৮৭ লাখে পৌঁছেছে, যা দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ৩১ শতাংশ।

রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও রাজীব শেঠি বলেন, ‘২০২৩ সালে রবির রেকর্ড আয়ের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে আমাদের নেটওয়ার্কের ওপর গ্রাহকদের পূর্ণ আস্থা। নেটওয়ার্কের ওপর এ আস্থা ২০২৩ সালে টেলিকম খাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রাহককে রবিতে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

রাজীব শেঠি বলেন, ‘এ খাতে সামগ্রিক নীতিমালা ও বিভিন্ন প্রক্রিয়া স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্রুত উদ্যোগ নিলে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।’- বিজ্ঞপ্তি