বর্তমান সময়ে যেসব সাইবার হামলা হচ্ছে সেগুলোর বেশির ভাগই করা হচ্ছে র‍্যানসমওয়্যারের মাধ্যমে। তবে এখন আর শুধু ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এ হামলা সীমাবদ্ধ নেই। এ হামলাগুলোর লক্ষ্য এখন বিভিন্ন বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালে র‌্যানসমওয়্যার হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর র‍্যানসমওয়্যারের হামলার শিকার ভুক্তভোগীরা প্রায় ১১০ কোটি ডলার মুক্তিপণ বাবদ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেইনালাইসিসের প্রকাশিত প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় র‌্যানসমওয়্যারের হামলায় অর্থ প্রদানের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময়ে সাইবার অপরাধীদের মূল শিকার ছিল হাসপাতাল, স্কুল ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আগামী বছরগুলোয় র‍্যানসমওয়্যার ল্যান্ডস্কেপ আরো বিস্তৃত হয়ে উঠবে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভুক্তভোগীর ওপর হামলাকারীরা চাপও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুক্তিপণ আদায় হবে প্রধানত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে।

মূলত র‍্যানসমওয়্যার গ্রুপগুলোর পরিকল্পিত হামলায় কম্পিউটারের ফাইলগুলোকে এনক্রিপ্ট করে সিস্টেমকে অচল করে দিয়ে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‍্যানসমওয়্যার হামলাকারী গ্রুপগুলো বর্তমানে ধনীদের টার্গেট করে বড় মুক্তিপণ পাওয়ার জন্য রীতিমত ‘বিগ গেম হান্টিংয়ে’ নেমেছে। এ সব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুক্তিপণ ১০ লাখ ডলারের বেশি। এছাড়া নতুন আরো একটি প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে হ্যাকাররা সিস্টেম থেকে সংবেদনশীল ডাটা আলাদা করে সরিয়ে রাখে। পরে সে ডাটার বিনিময়ে ভুক্তভোগীকে অর্থের জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

চেইনালাইসিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মতো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বে র‍্যানসমওয়্যার হামলা বেড়েছে। যদিও এ সাইবার অপরাধী গ্রুপের বেশির ভাগই পূর্ব ইউরোপ ও রাশিয়া থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে কিছু গ্রুপ রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েও সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি করেছে। যেমন ইউক্রেনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশকারী একজন অজ্ঞাতনামা তথ্য ফাঁসকারী প্রায় ৬০ হাজার অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রকাশ করার পর কন্টি নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ ভেঙে যায়। অন্যদিকে হাইভ র‍্যানসমওয়্যার গ্রুপের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের সফল ক্র্যাকডাউনের ফলে তাদের কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে ধীর হয়েছে।

সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম রেকর্ডেড ফিউচারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক অ্যালান লিসকা বলেন, ‘আশঙ্কার বিষয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় র‍্যানসমওয়্যার হামলার মাত্রা বেড়েছে। রেকর্ডেড ফিউচারের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালেই প্রায় ৫৩৮টি নতুন র‍্যানসমওয়্যার ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

হামলার পরিমাণ বেড়ে যাবার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে র‍্যানসমওয়্যার এখন সার্ভিস হিসেবে দেয়া হচ্ছে। যার ফলে অপরাধীরা অর্থ বিনিময়ে ম্যালওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া ইনিশিয়াল অ্যাকসেস ব্রোকার নামের আরো একটি পদ্ধতি হামলা বাড়াতে অবদান রেখেছে। এ পদ্ধতিতে ব্রোকার এজেন্ট বিভিন্ন নেটওয়ার্কের দুর্বলতা খুঁজে বের করে হামলাকারীদের কাছে সে তথ্য বিক্রি করে থাকে।

সাইবার নিরাপত্তা আইনজীবী এলি লুডলাম বলেন, ‘আমি মনে করি, ২০২৪ সালে র‍্যানসমওয়্যারের হামলা বাড়তে পারে। হ্যাকার গ্রুপগুলো বড় পরিসরে তথ্য চুরির দিকে মনোনিবেশ করছে। এর ফলে আগামীতে ভুক্তভোগী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি মুক্তিপণ আদায় হতে পারে।’