একটা সময় সামাজিক নেটওয়ার্কের ‘সাংস্কৃতিক গুরুত্ব’ বাড়ানোর প্রয়াসে সব ফেসবুক ব্যবহারকারীর বন্ধু তালিকা (ফ্রেন্ডলিস্ট) মুছে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার প্রথম দিন গত সপ্তাহের শুনানিতে উপস্থাপিত এক প্রমাণে এমন ধারণার কথা জানান জাকারবার্গ নিজেই। খবর টেকক্রাঞ্চ।
২০২২ সালে মেটার কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জাকারবার্গ প্রস্তাব করেছিলেন, ব্যবহারকারীদের বন্ধুত্বের তালিকা পুরোপুরি মুছে তাদের আবার নতুন করে যুক্ত হতে বাধ্য করা যেতে পারে। তার মতে, এতে লোকজন নতুন করে সংযুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় ফেসবুকের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে এবং এটি প্লাটফর্মের গুরুত্ব ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।
তবে ফেসবুকের প্রধান টম অ্যালিসনসহ অন্য শীর্ষ নির্বাহীরা এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় শেষ পর্যন্ত কৌশলটি বাস্তবায়ন হয়নি।
তবে আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র থেকে আরো জানা যায়, ফেসবুককে প্রাসঙ্গিক রাখতে জাকারবার্গ অন্য কিছু কৌশলও বিবেচনা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল বন্ধুভিত্তিক কাঠামো বাদ দিয়ে ফলোয়ার-ভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর ঘটানো। তবে সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর পুনরায় মনোযোগ দিয়েছে ফেসবুক। পুরনো দিনের ফেসবুকে ফিরে যাওয়ার প্রয়াসে তাদের ফ্রেন্ডস ট্যাবটি নতুন করে সাজিয়েছে। নতুন এ ট্যাবে বন্ধুত্বের অনুরোধ (ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট) এবং কেবল বন্ধুদের পোস্ট, রিল, স্টোরি ও জন্মদিনের মতো বিষয়গুলো কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে।
মেটার ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকের আয় বিবরণীতে জাকারবার্গ বলেন, ‘আমি মনে করি ফেসবুককে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাংস্কৃতিকভাবে প্রভাবশালী করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এর কিছুটা আমরা আগের মতো করে ফেসবুক ব্যবহারে ফিরিয়ে আনলেই অর্জন করা সম্ভব।’
এছাড়া মার্ক জাকারবার্গ চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার মধ্যে তার দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্য প্রদানকালে জানান, তিনি এক সময় ইনস্টাগ্রামকে মেটা থেকে আলাদা করার কথা ভেবেছিলেন। ২০১৮ সালের একটি নথি অনুযায়ী, মার্কিন নিয়ন্ত্রকরা একদিন মেটার ব্যবসাগুলোকে আলাদা হতে বাধ্য করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে তিনি এ পরিকল্পনা করেন।










