দুই বছর ধারাবাহিক পতনের পর ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারের আয় বেড়েছে ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের গ্লোবাল এভারেজ সেলিং প্রাইস বা গড় বিক্রয়মূল্য (এএসপি) রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে ৩৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টার পয়েন্টের গত শুক্রবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

সংস্থাটি বলছে, ২০২২-২৩ সালের নেতিবাচক প্রবণতা ভেঙে দিয়ে স্মার্টফোনের বাজারে আবারো গতি ফিরেছে। এছাড়া গড় বিক্রয়মূল্য ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ এখন আরো দামি ডিভাইস কিনতে আগ্রহী। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ও ক্রেতাদের মনোভাব পরিবর্তন হওয়ার কারণে সামগ্রিকভাবে ২০২৪ সালে স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে। পাশাপাশি ফাইভজি প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা, উন্নত ক্যামেরা ও দ্রুততর প্রসেসরের মতো নতুন ফিচারগুলো ভোক্তাদের পুরনো ফোন আপগ্রেড করতে উৎসাহিত করেছে।

গত বছরের স্মার্টফোন বাজারের গতিবিধি নিয়ে কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পী জৈন বলেন, ‘২০২৪ সালে স্মার্টফোন বাজারের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক দিক ছিল। এএসপি ও বিক্রির সংখ্যা উভয়ই বেড়েছে এ সময়। আয় বৃদ্ধির হার বিক্রির তুলনায় বেশি ছিল। এর পেছনে মূল কারণ হলো প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম সেগমেন্টে মনোনিবেশ করা এবং ভোক্তাদের উচ্চ মানের ডিভাইসের প্রতি আগ্রহ বাড়া।’

চলতি বছরের পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে স্মার্টফোন বিক্রি একক অংকের শতাংশে বাড়তে পারে, তবে বিক্রির তুলনায় বেশি হারে বাড়বে এএসপি ও আয়।’

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, স্মার্টফোন শিল্প ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। আগামী বছরগুলোয় প্রিমিয়াম সেগমেন্ট, সাশ্রয়ী ফাইভজি ডিভাইস ও জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) প্রযুক্তির প্রসার বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ বাজার প্রবৃদ্ধিতে বরাবরের মতো এবারো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট অ্যাপল ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের।

অ্যাপলের ২০২৪ সালের পারফরম্যান্স নিয়ে গবেষণা পরিচালক জেফ ফিল্ডহ্যাক বলেন, ‘বার্ষিক হিসাবে আইফোনের বিক্রিতে ৩ শতাংশ পতন সত্ত্বেও অ্যাপলের আয় তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং গড় বিক্রয়মূল্য বেড়ে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল প্রো সিরিজের, যা কোম্পানির আয় স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।’ এছাড়াও তার ভাষ্যানুযায়ী, উচ্চবিত্তদের ডিভাইস হিসেবে খ্যাত আইফোনের চাহিদা সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যেও বাড়ছে।

লাতিন আমেরিকার কথা উল্লেখ করে জেফ ফিল্ডহ্যাক বলেন, ‘বছরজুড়ে অ্যাপলের জন্য সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাজার ছিল এ অঞ্চল, যেখানে আইফোন বিক্রি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। কারণ এখানে আইফোনের নতুন সিরিজ সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া পুরনো মডেলগুলোর ওপর আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের কারণেও বিক্রি বাড়তে পারে।’

এদিকে ২০২৪ সালে বিক্রিতে সামান্য পতন সত্ত্বেও স্যামসাংয়ের আধিপত্য অব্যাহত ছিল। ২০২৪ সালে গ্লোবাল স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাং নিজের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। গড় বিক্রয়মূল্য বাড়ার কারণে স্যামসাংয়ের আয়ও বেড়েছে। এ সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল এস২৪ সিরিজ, যা আগের যেকোনো মডেলের তুলনায় বেশি সাড়া ফেলেছে। কাউন্টার পয়েন্ট বলছে, স্যামসাং প্রিমিয়াম সেগমেন্টে এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা কোম্পানির ব্র্যান্ড ইমেজকে আরো শক্তিশালী করছে।

গত বছর আয় বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষ পাঁচ স্মার্টফোন কোম্পানির তালিকায় অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের সঙ্গে আছে চীনের শাওমি, ভিভো ও অপো।