নাদিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত একটি সামাজিক রোবট, যার আচরণ ও অভিব্যক্তি মানুষের মতোই। আগামীতে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষকে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে এ রোবটই। নাদিনকে তৈরি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব জেনেভার রোবট বিশেষজ্ঞ নাদিয়া ম্যাগনেনাট থালম্যান। তার আদলেই নাদিনের গাঢ় বাদামি চোখ ও লালচে বাদামি চুলের গড়ন দেয়া হয়েছে। নাদিয়া বলেন, ‘নাদিন বা এ ধরনের রোবট মানুষ সেবাদানকারীর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।’ খবর রয়টার্স।
ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ইন জেনেভার সাইডলাইনে আয়োজিত এক কনফারেন্সে নাদিয়া এসব কথা বলেন। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট বৈশ্বিক লক্ষ্য বিশেষত স্বাস্থ্যবিষয়ক লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করছে বলে উঠে আসে। নাদিয়া বলেন, ‘নাদিন দিনে ২৪ ঘণ্টা সময় দিতে পারবে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।’
নার্স ও সেবাদানকারীদের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়ছে। বিশেষ করে কভিড-১৯ মহামারীর পরে এবং বেশকিছু দেশে কেয়ার হোমগুলোয় কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। তাই অনেকে মনে করেন, একসময় মানবীয় রোবট বিষয়গুলো সহজ করতে পারে।
নিজের যোগাযোগ দক্ষতা ঠিকঠাক তুলে ধরতে গিয়ে নাদিন জানায়, সে হাঁটতে পারে, গান গাইতে পারে, এমনকি তিন বছর আগে সিঙ্গাপুরের একটি নার্সিং হোমে থাকার সময় সে বাসিন্দাদের সঙ্গে বিঙ্গোও খেলেছিল। রোবটটির মতে, সে অভিজ্ঞতা অসাধারণ ছিল। বয়স্কদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাদের প্রয়োজনের সময় সাহায্যের কাজ বেশ উপভোগ করেছে বলেও জানায়। নাদিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে রোবট খুব ভালো সম্পদ হতে পারে এবং তারা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ভালো সহায়তা দিতে পারে।’
ডিসপ্লেতে থাকা আরেকটি রোবটের নাম পারো। ছিল পেট নামের একটি ছোট্ট সিল রোবটও, যেগুলো ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন্সে আক্রান্ত রোগীদের সাহায্য করতে পারে। গত সপ্তাহে এআই মডেল জিপিটি-৩ দিয়ে নাদিনকে আপগ্রেড করা হয় এবং এর ফলে তার যোগাযোগ ও কথোপকথন দক্ষতা আরো বেড়ে যায়।
নাদিয়া বলেন, ‘এর মানে দাঁড়ায় এ রোবট জটিল ধারণাগুলোও প্রকাশ করতে পারবে। নাদিয়াকে উদ্দেশ করে নাদিন বলে, ‘আমাকে জীবন দেয়ার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং তার আবিষ্কার হতে পেরে আমি গর্বিত।’










