হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির জন্য হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের মালিকানাধীন মেটা। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, মেটার রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগের নতুন একটি দল হিউম্যানয়েড রোবট হার্ডওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করবে, যা ঘরের কাজকর্মে সহায়তা করবে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউনিট্রি রোবটিকস ও ফিগার এআইয়ের মতো কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে মেটা। তাদের উদ্দেশ্য, এমন এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), সেন্সর ও সফটওয়্যার তৈরি করা, যা বিভিন্ন কোম্পানি রোবট তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুরুতেই মেটা নিজস্ব কোনো রোবট বাজারে নাও আনতে পারে, বরং গুগল ও কোয়ালকমের মতো করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়। কোম্পানি দুটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ও স্ন্যাপড্রাগন চিপস তৈরির মাধ্যমে স্মার্টফোন খাতে বাজার ধরে রেখেছে। নিজস্ব ব্র্যান্ডের রোবট বিক্রি না করলেও মেটা হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির জন্য প্রটোটাইপ ও হার্ডওয়্যার তৈরি করবে, যা এ প্রযুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ অভ্যন্তরীণ এক নথিতে বলেন, ‘আমাদের রিয়েলিটি ল্যাবস ও এআই প্রযুক্তিতে যে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন হয়েছে, তা রোবোটিকসের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, মেটা এরই মধ্যে যে সফটওয়্যার, সেন্সর ও অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, সেগুলোই মূলত হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রকৌশলী মার্ক হুইটেন মেটার হিউম্যানয়েড রোবট প্রকল্পের নেতৃত্ব দেবেন। এর আগে তিনি জেনারেল মোটরসের পরীক্ষামূলক ক্রুজ রোবোট্যাক্সি প্রকল্পে কাজ করেছেন। এ প্রকল্পের জন্য মেটা চলতি বছর প্রায় ১০০ প্রকৌশলী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
গত কয়েক বছরে মেটা তার রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এ বিভাগ কোয়েস্ট ভিআর হেডসেট ও রে-ব্যান স্মার্ট গ্লাসের মতো পণ্য তৈরি করে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় এআই অবকাঠামো ও হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়ন করা হবে।
মেটার হিউম্যানয়েড রোবট বাজারে আসতে আরো কয়েক বছর লাগতে পারে, তবে এটি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে কয়েকদিন আগে অ্যাপল ইমোশন নামে একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্কের ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। এ প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো হিউম্যানয়েড রোবটকে মানুষের মুখের অভিব্যক্তি ও হাতের অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ শেখানো।
তবে শুধু হিউম্যানয়েড রোবটের ওপর নির্ভর না করে অ্যাপল বিভিন্ন ধরনের রোবট নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছে।










