চ্যাটজিপিটি শিগগিরই মানুষের তুলনায় বেশি কথা বলবে বলে মন্তব্য করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যান। তিনি জানান, প্রতিদিন চ্যাটজিপিটির আলাপচারিতা পৃথিবীর সব মানুষের মোট কথোপকথনের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইও। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর দৈনন্দিন আলাপচারিতার সংখ্যা বাড়ছে। এমন এক সময় আসবে যখন চ্যাটবট সমগ্র মানবজাতির থেকেও বেশি কথা বলবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, এটি কোনো রসিকতা নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের একটি গুরুতর পূর্বাভাস। স্যাম অল্টম্যান বলছেন, ‘শিগগিরই প্রতিদিন শতকোটি মানুষের সঙ্গে কথোপকথন চালাবে এ চ্যাটবট।’

ওপেনএআইয়ের সম্প্রতি উন্মোচিত মডেল জিপিটি-ফাইভ নিয়ে বেশ আলোচনা ও উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কিছু অপ্রত্যাশিত সমালোচনাও এসেছে। ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, নতুন মডেলটি জিপিটি-ফোরওর তুলনায় কম বন্ধুসুলভ এবং ‘নির্জীব’ মনে হয়েছে। এছাড়া ওপেনএআই যখন পুরনো মডেলটি ব্যবহার বন্ধ করে দেয়, তখন আরো সমস্যা তৈরি হয়। পরে কোম্পানিটি দ্রুত সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।

২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি উন্মোচনের সময় এর প্রচার -প্রচারণা ছিল খুবই কম। কিন্তু পরে চ্যাটবটটি সবচেয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনকারী কনজিউমার টেক পণ্য হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। প্রযুক্তির মানুষের মতো ভাষা বোঝার ও ব্যবহারের ক্ষমতা অনেকের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। তবে একই সঙ্গে এর কারণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে প্রথমবারের মতো চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০০ মিলিয়ন বা ৭০ কোটিতে পৌঁছায়। মার্চে এ সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি। গত বছরের তুলনায় ব্যবহারকারী বেড়ে হয়েছে চার গুণের বেশি।