অনলাইনে প্রকাশিত নতুন কনটেন্টের (সংবাদ, ব্লগ পোস্ট বা তথ্যবহুল বিষয়বস্তু) একটা বড় অংশ এখন মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে লেখা হয় বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গ্রাফাইটের এ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর নভেম্বরে প্রকাশিত নতুন অনলাইন আর্টিকেলের ৫০ শতাংশের বেশি এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এ সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও, এটি অনলাইন কনটেন্ট তৈরির ধরনকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। খবর টেকরাডার।
গবেষণায় ২০২০-২৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত ৬৫ হাজার ইংরেজি ওয়েবপেজের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা এআই-ডিটেকশন টুলের ব্যবহার করে প্রতিটি আর্টিকেল মানুষ নাকি এআই লিখেছে, তা চিহ্নিত করেছেন। যদি কোনো আর্টিকেলের অর্ধেকের বেশি বিষয়বস্তু এআই ডিটেকশন মানদণ্ডের সঙ্গে মিলে যায়, তবে সেটিকে এআই লিখিত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
গবেষকরা যদিও স্বীকার করেছেন, এ ডিটেকশন টুল সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়। এর ভুল শনাক্তের হার প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভুল করার প্রায় দশমিক ৬ শতাংশ। টুলটি মাঝে মাঝে ভুলভাবে মানব লেখা আর্টিকেলকে এআই লেখা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
গ্রাফাইটের প্রতিবেদন বলছে, গবেষণার ফল অনেকের জন্য অপ্রত্যাশিত হতে পারে। কারণ এআই-লেখা বেশি মানে তা বেশি পড়া হচ্ছে এমন নয়। অধিকাংশ এআই কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিনে ভালো কাজ করে না এবং গুগল বা চ্যাটজিপিটিতে তা সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। এখনো অনলাইনে মানুষের লেখা কনটেন্টই ক্লিক হয় সবচেয়ে বেশি।
মূলত ২০২২ সালের শেষের দিকে চ্যাটজিপিটি উদ্ভাবনের পর এআই লিখিত আর্টিকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এরপর জেমিনি, ক্লড, গ্রোক ও অন্যান্য চ্যাটবটের উত্থানে এ প্রবণতা আরো বাড়তে থাকে।
তবে মোট সংখ্যার দিক থেকে মেশিনের লেখা কনটেন্ট এখন মানুষের লেখা কনটেন্টকে ছাড়িয়ে গেছে। মিডিয়া কোম্পানি, মার্কেটার ও কনটেন্ট ফার্মগুলো কম খরচে লেখক ছাড়াই আর্টিকেল তৈরিতে এআইয়ের দিকে ঝুঁকছে। নতুন প্রজন্মের এআই মডেলগুলো আগের তুলনায় দ্রুত ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এ প্রবণতা আরো বেড়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে থেকে নতুন এআই লিখিত আর্টিকেলের অংশ প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। প্রকাশকরা হয়তো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছেন। এআই-ডিটেকশন টুলও উন্নত হচ্ছে। নিম্নমানের এআই কনটেন্ট পাঠক ও সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা হারায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটে মানুষের লেখা ও মেশিনের লেখা মিশে যাচ্ছে। তবু শেষ পর্যন্ত পাঠকরা মানুষের লেখা পড়তেই বেশি আগ্রহী।










