চার বছর আগে মেটা যখন স্মার্ট গ্লাস বাজারে এনেছিল, তখন সেটাকে ধরা হয়েছিল অপ্রত্যাশিত সাফল্য হিসেবে। লাখ লাখ মানুষ সেটি কিনেছিল। এবার প্রতিষ্ঠানটি স্মার্ট গ্লাসের ওপর আরো বড় বাজি ধরছে। খবর নিয় ইয়র্ক টাইমস।
বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে তাদের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে মেটা তিন ধরনের নতুন স্মার্ট গ্লাস উন্মোচন করেছে। এর মধ্যে একটির নাম 'মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে'। এই চশমার লেন্সের ভেতর একটি ছোট্ট স্ক্রিন আছে, যেখানে অ্যাপস দেখা যাবে, ইনস্টাগ্রামে মিডিয়া শেয়ার করা যাবে এবং এর ভেতরে থাকা স্পিকার থেকে গানও শোনা যাবে। এই গ্লাসের অ্যাপগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে একটি রিস্টব্যান্ড দিয়ে। এতে ভয়েস-ভিত্তিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্টও আছে। এর মাধ্যমে স্পিকার দিয়ে কথা বলা এবং ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যাবে।
নতুন স্মার্ট গ্লাসগুলোর মধ্যে একটি হলো বিদ্যমান রে-ব্যানসের উন্নত সংস্করণ এবং তৃতীয়টি খেলাধুলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। 'মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে'-এর দাম হবে ৭৯৯ ডলার, যা আগের সংস্করণের দামের প্রায় দ্বিগুণ। এটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে।
সম্মেলনে মেটার কিছু স্মার্ট গ্লাসকে অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় উদ্বোধনের সময় মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ গ্লাসকে একটি বারবিকিউ সসের রেসিপি দিতে এবং একজন সহকর্মীকে কল করতে বলেন—কিন্তু ডিভাইসটি তা করতে ব্যর্থ হয়। দর্শকরা হাসতে শুরু করলে জাকারবার্গ বলেন, ‘তারা আমাদের লাইভ ডেমো দিতে মানা করেছিল।‘
তিনি আরো বলেন, ‘এই গ্লাসগুলো আপনি যা দেখবেন, তা দেখতে পাবে; আপনি যা শুনবেন, তা শুনতে পাবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে।‘
ভারী ভিআর হেডসেটের পরিবর্তে মেটার নতুন গ্লাস দেখতে একেবারে সাধারণ সানগ্লাসের মতো। ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও স্পিকার এতটাই সূক্ষ্মভাবে বসানো যে বাইরে থেকে বোঝাই যায় না। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে গ্লাসগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিআর ডিভাইসের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ভিজিবল আলফার গবেষণা প্রধান মেলিসা অটো বলেন, ‘মেটাভার্স মূলত গেমারদের জন্য ছিল। কিন্তু ভাবুন তো, কত মানুষ সানগ্লাস ব্যবহার করে!’










