কার্যক্ষমতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব ধরে রাখতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কম্পিউটার পরিষ্কার করা জরুরি। তবে ভুলভাবে পরিষ্কার করলে উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে। নতুন ব্যবহারকারীরা কম্পিউটার পরিষ্কার করতে গিয়ে সাধারণ কিছু ভুল করে থাকেন। এসব ভুলে ডিভাইসটির পেছনে অর্থ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। মেকইউজঅব অনুকরণে এমন কিছু ভুলের কথা তুলে ধরা হলো—

কম্পিউটার বন্ধ না করা: কম্পিউটার চালু অবস্থায় পরিষ্কার করা একটি সাধারণ ভুল। কম্পিউটার চালু থাকলে র‌্যাম, এসএসডি, মাদারবোর্ডসহ অন্যান্য অংশে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, যা পরিষ্কার করার সময় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। কোনো ক্লিনিং সলিউশন বা স্প্রে এসব অংশের ওপর পড়লে শর্ট সার্কিট হতে পারে। তাছাড়া জিপিইউ ফ্যানের সঙ্গে আঙুল আটকে যেতে পারে। কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ সার্কিট স্পর্শ করলে শক খাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

স্থির বিদ্যুতের ঝুঁকি উপেক্ষা করা: স্থির বিদ্যুতের সামান্য প্রবাহও কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পরিষ্কারের সময় এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। গালিচায় হাঁটা কিংবা দুহাত একসঙ্গে ঘষার ফলে শরীরে স্থির বিদ্যুৎ জমতে পারে। এ অবস্থায়

কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া কম্পিউটারের স্পর্শকাতর অংশ স্পর্শ করলে তা স্থায়ীভাবে বিকল হতে পারে। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কম্পিউটার স্পর্শের আগে নিজেকে গ্রাউন্ডিং করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে খালি পায় মাটিতে হাঁটা বা আর্থিংযুক্ত কোনো ধাতব স্পর্শ করা যেতে পারে। এছাড়া অ্যান্টি-স্ট্যাটিক রিস্ট স্ট্র্যাপও ব্যবহার করা যাবে। কম্পিউটার পরিষ্কারের সময় তা কাঠের টেবিল বা অন্য কোনো অপরিবাহী স্থানে রাখা উচিত।

অতিরিক্ত তীব্র রাসায়নিক ক্লিনার ব্যবহার করা: অ্যামোনিয়া যুক্ত তীব্র রাসায়নিক ক্লিনার কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব ক্লিনার ব্যবহার করলে যন্ত্রাংশের মধ্যে প্রবেশ করে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে। স্ক্রিনে ব্যবহার করলে ডিসপ্লের প্রটেক্টিভ কোটিং নষ্ট হতে পারে, রঙ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে অথবা স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

এ ঝুঁকি এড়াতে সবসময় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের জন্য নির্ধারিত ক্লিনিং সলিউশন ব্যবহার করুন। একটি মাইক্রোফাইবার কাপড় হালকাভাবে ভিজিয়ে নিন, তবে কখনই সরাসরি কম্পিউটারের ওপর তরল স্প্রে করবেন না। পোর্ট, কীবোর্ড বা অন্যান্য অংশ পরিষ্কারের সময় যত কম সম্ভব ক্লিনার ব্যবহার করুন, যেন আর্দ্রতা যন্ত্রাংশের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

এছাড়া পরিষ্কার করার সময় ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় থাকুন। অন্যান্য কম্পোনেন্ট পুনরায় সংযুক্ত করার আগে নিশ্চিত করুন যে সবকিছু সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে।

ভুলভাবে কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করা: কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহারে ধুলো ও ময়লা সহজেই পরিষ্কার করা যায়। তবে এটি ভুলভাবে ব্যবহার করলে সমস্যা হতে পারে। ভুল কোণ থেকে স্প্রে করলে ধুলো আরো গভীরে ঢুকে যেতে পারে। অতিরিক্ত জোরে স্প্রে করলে সংবেদনশীল অংশ খুলে যেতে পারে। তাছাড়া খুব কাছ থেকে স্প্রে করলে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশে পানি জমে যেতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে কমপ্রেসড এয়ার সবসময় সোজা ধরে ৬-৮ ইঞ্চি দূর থেকে স্প্রে করতে হবে। সংবেদনশীল অংশের ওপর সরাসরি স্প্রে করা যাবে না। নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশে স্প্রে না করাই ভালো। স্প্রে ক্যানে স্ট্র সংযুক্ত করে নিলে লক্ষ্যবস্তুতে আরো ঠিকভাবে বাতাস প্রবাহিত করা যায়। মেকইউজঅব