অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবস্থায় অ্যালফাবেটের গুগল অবৈধভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে বলে রায় দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক। ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া শহরে গত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন হলে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে গুগল। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও ১৭টি অঙ্গরাজ্য গুগলের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছিল। মামলায় বলা হয়, কোন বিজ্ঞাপনগুলো কোথায় দেখানো হবে, গুগল তা অবৈধভাবে নির্ধারণ করছে। এটি এক বছরে গুগলের বিরুদ্ধে করা দ্বিতীয় অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা। এর আগে গুগলকে অনলাইন সার্চে একচেটিয়া দখলদারত্বের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

আলেকজান্দ্রিয়ার মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ লিওনি ব্রিংকেমা গত বৃহস্পতিবার তার রায়ে বলেন, ‘গুগল অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির দুটি বাজারে অবৈধভাবে একচেটিয়া দখলদারি করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিজ্ঞাপন সার্ভার এবং বিজ্ঞাপন এক্সচেঞ্জ বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি ও তা বজায় রেখেছে।’

বিচারক লিওনি ব্রিংকেমা এ বিষয়ে বলেন, ‘গুগল তাদের গ্রাহকদের ওপর প্রতিযোগিতাবিরোধী নীতিমালা চাপিয়ে দেয়ার সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে জনপ্রিয় কিছু ফিচার বাদ দিয়ে দিয়েছে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিযোগিতার সুযোগ নষ্ট হয়েছে।’

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, বিশাল ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারে গুগলের একচেটিয়া আধিপত্য সীমিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এ রায়ের ফলে গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসার একটি অংশ বিক্রি করে বিজ্ঞাপন বাজারে প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে পারবে মার্কিন বিচার বিভাগ। যদিও আদালত এখনো চূড়ান্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ঠিক করেনি। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে এ রায়ের পর আরেকটি শুনানি হবে। এর আগে সার্চ ইঞ্জিন-সংক্রান্ত এক মামলায় গুগলের বিরুদ্ধে একই রায় দিয়েছিল আদালত।

মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, গুগলের অন্তত গুগল অ্যাড ম্যানেজার বিক্রি করা উচিত। এ অ্যাড ম্যানেজারের সঙ্গেই পাবলিশার টুলস ও অ্যাড এক্সচেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে ইউরোপীয় রেগুলেটরদের সন্তুষ্ট করতে অ্যাড এক্সচেঞ্জ বিক্রির কথা বিবেচনা করেছিল গুগল।

বিশ্লেষকরা গত বৃহস্পতিবারের রায়কে প্রযুক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে এ রায়ের ফলে অ্যামাজন, মেটার মতো একই ব্যবসায়িক কাঠামোবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি বাড়ছে। এ পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এখন কাঠামোগত পরিবর্তন চায় মার্কিন প্রশাসন।