সার্চ ইঞ্জিনের বাজারে গুগলের আধিপত্যের মধ্যেও তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। ওপেনএআই প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ব্যবহারকারীর আলাপের ২৪ শতাংশ ছিল তথ্য অনুসন্ধানকেন্দ্রিক, যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বেশির ভাগ ব্যবহারকারীই চ্যাটবটকে বেছে নিচ্ছেন ব্যক্তিগত আলাপের জন্য। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

চ্যাটজিপিটি চালুর পর গত তিন বছরে ব্যবহারকারীদের অভ্যাস কীভাবে ও কতটুকু বদলেছে, তা পর্যবেক্ষণ করাই ছিল ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক গবেষণার মূল লক্ষ্য।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য অনুসন্ধান, ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা ও লেখালেখি সম্পর্কিত কাজ মিলিয়ে চ্যাটজিপিটিতে মোট কথোপকথন হয় ৭৭ শতাংশ।

২০২২ সালে চালুর পর থেকেই চ্যাটজিপিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে প্লাটফর্মটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ কোটিতে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই এটি ব্যক্তিগত বা বিনোদনের কাজে ব্যবহার করছেন, কাজের জন্য নয়। আগে এ ধরনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৩ শতাংশ ছিল, এখন তা বেড়ে ৭০ শতাংশ হয়েছে।

তবে কাজের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার বেশি দেখা গেছে শিক্ষিত ও উচ্চ বেতনের পেশাজীবীদের মধ্যে। একই সঙ্গে তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে কাজের উদ্দেশ্যে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

এআই কোম্পানিটির তথ্যানুযায়ী, গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর কথোপকথন গোপনীয়তা রক্ষা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা ব্যবহারকারীদের পাঠানো বার্তায় প্রবেশাধিকার পাননি; বরং স্বয়ংক্রিয় টুলের মাধ্যমে ব্যবহারের ধরন শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণার নমুনা ডাটাসেটে (পুরো ডাটার প্রতিনিধিত্বকারী বাছাই করা অংশ) রাখা হয়নি ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর কথোপকথন, নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য, লগ-আউট থাকা ব্যবহারকারী।