আইফোন একটি শক্তিশালী ডিভাইস, তবে নানা কারণে কিংবা না জানার ফলে এর পুরো সক্ষমতা বেশির ভাগ সময় কাজে লাগানো হয় না। অ্যাপলের এ ডিভাইসে এমন কিছু সেটিংস থাকে, যা ব্যবহারকারী প্রায়ই উপেক্ষা করে যান। কিছু অচেতন অভ্যাস আইফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অজান্তেই জটিল করতে পারে—
ডিফল্ট অ্যাপ ব্যবহার
অ্যাপল তার নিজস্ব অ্যাপগুলোকে ই-মেইল, ব্রাউজিং ও মেসেজিংয়ের জন্য ডিফল্ট হিসেবে সেট করে। কিন্তু সেটাই ব্যবহার করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বেশ ভালো কিছু থার্ড পার্টি অ্যাপ আছে যেগুলো ভালো কাজ করে। যেমন যদি কেউ অ্যান্ড্রয়েডের পরিবর্তে আইফোন ব্যবহার শুরু করেন, তাহলে গুগল ক্রোম, জি-বোর্ড ও জিমেইলের মতো অ্যাপগুলোকে আইফোনেও ব্যবহার করতে পারবেন।
কন্ট্রোল সেন্টার ও লক স্ক্রিন কাস্টমাইজ না করা
আইফোনের লক স্ক্রিনে ফ্ল্যাশলাইট বা ক্যামেরার শর্টকাট দেয়া থাকে। এসব অ্যাপ যদি বেশি ব্যবহার না হয়, তাহলে অ্যাপগুলোর পরিবর্তে ম্যাগনিফায়ার, অ্যাপল রিমোট, হোয়াটসঅ্যাপ পছন্দের কোনো অ্যাপ দিয়ে কাস্টমাইজ করে যেতে পারে। তাছাড়া কন্ট্রোল সেন্টার কাস্টমাইজ করে পছন্দের অ্যাপগুলোর শর্টকাটও যোগ করা যায়। যেমন আইডিয়া লিখে রাখার জন্য অ্যাপল নোটস, গান খোঁজার জন্য শ্যাজম বা কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য চ্যাটজিপিটি যক্ত করা। এভাবে ব্যবহারকারী সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপগুলোকে হাতের নাগালে রাখতে পারেন।
শর্টকাট অ্যাপ ব্যবহারসহ গুরুত্বপূর্ণ আইএসও আপডেট না করা
শর্টকাট অ্যাপ ব্যবহার করে ম্যানুয়ালি ওয়াই-ফাই বন্ধ-চালু করা, লো পাওয়ার মুড অন করা বা স্লিপ টাইমার দেয়া যায়। আর অটো মুডে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
চার্জিং ও স্টোরেজ অপ্টিমাইজ এবং অথরাইজড চার্জার ব্যবহার না করা
অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং ব্যবহার না করলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি দুর্বল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে আইফোনের স্টোরেজও অপ্টিমাইজ করতে হবে। আইক্লাউড+সাবস্ক্রাইব করে নিলে আর স্টোরেজ ভরে যাওয়ার সমস্যা থাকে না। এছাড়া আইফোনের অথরাইজড চার্জার ব্যবহার করতে হবে। নয়তো ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফোনে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত অ্যাপ দিয়ে হোম স্ক্রিন ভরে রাখা
আইফোনের আইএসও অটো ডাউনলোড করা অ্যাপগুলোকে হোম স্ক্রিনে রাখে। এ সমস্যা এড়াতে সরাসরি অ্যাপ লাইব্রেরি হোম স্ক্রিনে রাখা যায়। এজন্য সেটিংস থেকে হোম স্ক্রিনে গিয়ে শুধু অ্যাপ লাইব্রেরি অন করতে হবে। তবে যেকোনো সময় সে অ্যাপগুলো হোম স্ক্রিনে যোগ করা যায়।
ব্যাক ট্যাপ কার্যকারিতা এড়িয়ে যাওয়া
ব্যাক ট্যাপ একটি অ্যাকসেসিবিলিটি অপশন ফিচার। এর মাধ্যমে ফোনের পেছনে ডাবল বা ট্রিপল ট্র্যাপ করে বিভিন্ন অ্যাপে ঢোকা যাবে, স্ক্রিনশট নেয়া যাবে, ডিভাইস মিউট করা যাবে, ক্যামেরা ওপেন করা ও সিরি অ্যাক্টিভ করা যাবে। এজন্য আলাদা করে কোনো মেনুতে যেতে বা বাটন চাপতে হয় না।
নোটিফিকেশন সামারি ফিচার এড়িয়ে যাওয়া
নোটিফিকেশন ম্যানেজ করার জন্য আইএসও ও নোটিফিকেশন সেন্টার যথেষ্ট নয়। অনেক সময় বিভিন্ন অ্যাপ থেকে আসা নোটিফিকেশন অত্যন্ত বিরক্তিকর হতে পারে। তাই নোটিফিকেশন সামারি ব্যবহার করে এ সমস্যার সমাধান করা যায়। নোটিফিকেশন সামারি চালু করতে ফোনের সেটিংস অপশনের নোটিফিকেশন গিয়ে শিডিউল সামারি অপশন চালু করতে হবে। এতে আইফোন তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন নোটিফিকেশনগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভার করবে।
মেকইউজঅব অবলম্বনে










