কভিড-১৯ মহামারীর পর প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে ইউরোপের স্মার্টফোন বাজার। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অঞ্চলটিতে স্মার্টফোন বিক্রি ২ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৩১ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট নিরসনসহ ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে বলে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩৭ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে অঞ্চলটিতে শীর্ষে ছিল স্যামসাং। বিশেষ করে গ্যালাক্সি এস টোয়েন্টিফোর ও সাশ্রয়ীমূল্যের এ সিরিজ ডিভাইস বিক্রির মাধ্যমে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কোম্পানিটি। ২২ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে ইউরোপের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল অ্যাপল। এর পরের তিনটি স্থানে রয়েছে শাওমি, মটোরোলা ও অনর। কোম্পানিগুলোর বাজার হিস্যা যথাক্রমে ১৬, ৬ ও ৩ শতাংশ।

ক্যানালিসের বিশ্লেষক রুনার বোরহোভডে বলেন, ‘‌বিভিন্ন দামের ডিভাইস ক্রয়ের চাহিদাতে পরিবর্তন আসছে। কেননা প্রিমিয়াম সেগমেন্টের গ্রাহকরা হাই-এন্ডের দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সাশ্রয়ীমূল্যের ডিভাইস কিনছে।’

তিনি বলেন, ‘‌২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের চাহিদা বেশি ছিল। এ সময় স্মার্টফোনের দাম ৮০০ ডলারের মধ্যে ছিল এবং মোট বিক্রিত ডিভাইসের ৩২ শতাংশই ছিল প্রিমিয়াম। প্রিমিয়াম ডিভাইসের বাজার অনেকটাই স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস টোয়েন্টি ফোর সিরিজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।’

ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপের বাজারে গ্যালাক্সি এস সিরিজ ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। বিক্রীত ডিভাইসের সংখ্যা ৪৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের আধিপত্য থাকলেও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বাজেট বা সাশ্রয়ীমূল্যের ডিভাইসের চাহিদা বাড়ায় গড় বিক্রয়মূল্য ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এ চাহিদার কারণে সাশ্রয়ী মূল্যের ডিভাইসের তালিকায় স্যামসাং গ্যালাক্সি এ ফিফটিন, শাওমির রেডমি থার্টিন সি ও নোট থার্টিন ফোরজির মতো ডিভাইস দেখা গেছে। সাশ্রয়ী মূল্যের ডিভাইসের এ চাহিদা চলতি বছরের বাকি সময়ও অঞ্চলটির বাজার প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রুনার বোরহোভডে বলেন, ‘‌সম্প্রতি স্মার্টফোনের এআই সক্ষমতার বিষয়ে এক জরিপ পরিচালনা করা হয়। সেখানে ৪০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী স্বীকার করেছেন যে, এআই সক্ষমতা ও ফিচার তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আনবে।’

প্রযুক্তিবিদদের মতে, বিস্তৃত পণ্য ও ব্র্যান্ডের প্রচারণার অংশ হিসেবে এআই সক্ষমতাকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। কেননা ইউরোপের অধিকাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এআইয়ের সক্ষমতার বিষয়ে এখন সতর্কতামূলক অবস্থায় রয়েছেন। বাজার প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে এবং কোম্পানিগুলো আস্থা হারাবে।

ক্যানালিসের পূর্বাভাস চলতি বছর ইউরোপের স্মার্টফোন বাজার ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। প্রবৃদ্ধি অর্জনে এআই সক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ক্যানালিসের বিশ্লেষক রুনার বোরহোভডে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পরিবেশ রক্ষায় স্মার্টফোন ডিজাইনের যে নির্দেশনা দিয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে কোম্পানিগুলোকে তা অনুসরণ করতে হবে। এর প্রভাবে সফটওয়্যার আপডেট থেকে শুরু করে, ডিভাইসের টেকসইতা ও মেরামতযোগ্যতার মতো বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে।