২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে সাইবার আক্রমণের পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বীমা খাতেও। ব্রিটিশ বীমা সমিতি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটিশ ইন্স্যুরার্সের (এবিআই) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে সাইবার সুরক্ষা বীমার ক্ষতিপূরণ দাবি দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৯ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে, যা আগের বছর ছিল ৬ কোটি পাউন্ড। অর্থাৎ এক বছরে দাবির পরিমাণ বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। সাইবার অপরাধী চক্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর মধ্যে বীমার ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ঘটনা এখন ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
এবিআই জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে সাইবার বীমা খাত এখনো তুলনামূলক ছোট হলেও দ্রুত বাড়ছে এর পরিধি। ২০২৪ সালে মোট বীমা দাবির ৫১ শতাংশের কারণ ছিল ম্যালওয়ার ও র্যানসমওয়ার আক্রমণ। আগের বছর এ হার ছিল ৩২ শতাংশ। এসব ঘটনার পর চলতি বছরে খুচরা বিক্রেতা হ্যারডস ও মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হয়। গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারও (জেএলআর) আক্রান্ত হয়, যদিও প্রতিষ্ঠানটি কোনো সাইবার বীমার আওতায় ছিল না।
ব্রিটিশ ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী গ্রেম ট্রাডগিল বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার বীমার দাবির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হওয়া লগইন ও পাসওয়ার্ড তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হচ্ছে। আপনি সরবরাহ চেইনের শীর্ষে থাকুন বা একেবারে নিচে, যেকোনো সময় আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারেন।’
বীমাপ্রতিষ্ঠান বিঝলির প্রধান আন্ডাররাইটিং কর্মকর্তা পল বেন্টিক বলেন, ‘কিছু সাইবার অপরাধী কেবল অর্থের জন্য হামলা চালায়, আবার কেউ কেউ ভূরাজনৈতিক কারণে নির্দিষ্ট দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে। এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে বড় কোম্পানি, অবকাঠামো, জ্বালানি ও রেল নেটওয়ার্ক। ২০২৪ সাল থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আরো সূক্ষ্ম ও ব্যক্তিনির্ভর ফিশিং হামলার প্রবণতা বেড়েছে।’
চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত সরকারি জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ৬০ শতাংশেরও বেশি কোনো না কোনো সাইবার বীমা গ্রহণ করেছে। তবে এসব বীমা পণ্যে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তরজনিত ক্ষতি বা ভূরাজনৈতিক কারণে সংঘটিত সাইবার হামলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না।
ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী নিখিল রাথি বলেন, ‘আমরা হয়তো সাইবার ঝুঁকির ক্ষেত্রে যথেষ্ট বীমা সুরক্ষার মধ্যে নেই। বড় আকারের ক্ষতি হলে চাপ পড়ে ট্রেজারির ওপর, আর কর্মসংস্থান ক্ষতির মাধ্যমে বাড়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ। রাষ্ট্র যদি বড় ধরনের ক্ষতির সময় বীমা খাতে সহায়তা দেয়, তাহলে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোও আরো বিস্তৃত সাইবার বীমা সেবা দিতে উৎসাহিত হবে।’










