চ্যাটজিপিটির মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপ বিশ্লেষণ ও তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা অ্যাপটোপিয়ার নতুন এক বিশ্লেষণে এমন সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। কারণ গত এপ্রিলের পর অ্যাপটি ডাউনলোড ও ব্যবহারের গতি খুব একটা বাড়েনি।

সংস্থাটি অনুমান করছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে নতুন ব্যবহারকারীর সংখ্যা না বাড়ায় গত মাস থেকে চ্যাটজিপিটি অ্যাপের প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থিতিশীল হয়ে এসেছে।

অ্যাপটোপিয়ার তথ্যানুযায়ী অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগের মাসের তুলনায় অ্যাপটির বৈশ্বিক ডাউনলোড হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। তবে এটি মোট ডাউনলোড কমে যাওয়ার চিত্র নয়, বরং ডাউনলোডের গতি কমে আসার ইঙ্গিত দেয়। নতুন ইনস্টলের সংখ্যা বিবেচনায় এখনো প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি অ্যাপ ইনস্টল করছে। ডাউনলোড এখনো হচ্ছে, কিন্তু আগের মতো দ্রুত নয়।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই মডেলের বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ও বাড়তি প্রতিযোগিতা এর কারণ হতে পারে। এছাড়া বাজারে এখন অনেক প্রতিযোগীও রয়েছে, যারা দিন দিন আরো উন্নত হচ্ছে।

এদিকে ওপেনএআই এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের গতি কমে যাওয়ার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। এর মধ্যে শুধু গুগলের জেমিনির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, এআই মডেলের পরিবর্তনও ভূমিকা রেখেছে। গত এপ্রিলে একটি আপডেটের মাধ্যমে চ্যাটবটটির সব কথায় সায় দেয়ার প্রবণতা কমিয়ে ডিজাইন করা হয়েছিল। এছাড়া আগস্টে জিপিটি-৫ সংস্করণ প্রকাশ হয়েছিল, যা কম ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে অ্যাপটোপিয়া উল্লেখ করেছে, যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী জেমিনির উত্থানের আগেই চ্যাটজিপিটি অ্যাপে ব্যবহারকারীদের গড় সময় ব্যয় কমতে শুরু করেছিল। গত সেপ্টেম্বরে গুগলের নতুন এআই ইমেজ মডেল ‘ন্যানো ব্যানানা’ প্রকাশের কারণে জেমিনি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। তাই জেমিনির এ উত্থান চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সংখ্যায় নিম্নমুখী প্রবণতার ব্যাখ্যা হতে পারে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, যেহেতু গড় ব্যবহারের সময় ও ব্যবহারকারীর সংখ্যা উভয়ই কমেছে, তাই বোঝা যাচ্ছে মানুষের আগের মতো উৎসাহটা কমে গেছে। এখন অ্যাপটি দৈনন্দিন প্রয়োজনের অংশ হয়ে গেছে। অ্যাপটি এখন শুধু প্রয়োজনমতো ব্যবহার হচ্ছে, অকারণেই বারবার এটি কেউ খুলছে না।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, চ্যাটজিপিটি অ্যাপের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কোম্পানিটি শুধু নতুনত্বের ওপর নির্ভর করতে পারবে না। অন্য প্রতিষ্ঠিত মোবাইল অ্যাপের মতো ওপেনএআইকেও জনপ্রিয়তা বাড়াতে নতুন ফিচার আনতে হবে। শুধু আলোচিত বা জনপ্রিয় থাকার কারণে অ্যাপের বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব নয়।

অবশ্য এ লক্ষ্যেও কাজ করছে কোম্পানিটি। চ্যাটজিপিটিকে শুধু প্রশ্ন-উত্তরের টুল না রেখে একটি ভার্চুয়াল বিক্রেতায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে ওপেনএআইয়ের। একই সঙ্গে কনজিউমার হার্ডওয়্যার পণ্যসহ চ্যাটজিপিটি প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। —খবর টেকক্রাঞ্চ