বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৩২০ কোটি ক্রেডেনশিয়াল বা লগইন তথ্য চুরি হয়েছে। গত বছর হাতিয়ে নেয়া এসব ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড স্ক্যাম ও সাইবার আক্রমণের মতো অবৈধ কার্যকলাপ চালাতে ব্যবহার হয়। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাশপয়েন্টের গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্রতিবেদনে সম্প্রতি এসব তথ্য উঠে আসে। খবর টেকরাডার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরি হওয়া লগ ইন তথ্য আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এসবের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ চুরি করা হয় ইনফোস্টিলার নামে এক ধরনের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে। গত বছর ম্যালওয়্যারটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দুই কোটির বেশি ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রেডলাইন ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে, যা গত বছর ৯৯ লাখ ডিভাইসকে আক্রান্ত করেছে।

ফ্ল্যাশপয়েন্ট বলছে, গত বছর র‍্যানসমওয়্যার হামলার হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সব খাতে এ ধরনের সাইবার আক্রমণ বেড়েছে ১০ শতাংশ। র‍্যানসমওয়্যারের দিক থেকে ২০২৪ সালকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ বছর উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, যখন র‍্যানসমওয়্যার ও ইনফোস্টিলার গ্রুপগুলো ধরা পড়ে বা ভেঙে দেয়া হয়, তখনো সাইবার অপরাধের বাজার দৃঢ়ভাবে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ নতুন গ্রুপ ও ম্যালওয়্যার দ্রুত সামনে আসে। এসব হুমকি অনেক বেশি পরিবর্তনশীল ও টিকিয়ে রাখার মতো শক্তিশালী। ফলে নিরাপত্তা দল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজ আরো কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ আছে, ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৬৭০টি প্রকাশিত ডাটা লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৬৮০ কোটির বেশি তথ্য ফাঁস হয়েছে। এতে একদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক ও ব্যবহারকারী বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছেন; অন্যদিকে ফাঁসকৃত তথ্য সাইবার অপরাধী সংগঠনগুলোর অর্থ জোগানেও ভূমিকা রেখেছে।

ফ্ল্যাশপয়েন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান গ্রে বলেছেন, ‘বর্তমান সময় প্রযুক্তির জন্য একদিকে আশীর্বাদ, অন্যদিকে অভিশাপও। সাইবার নিরাপত্তা এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় হওয়া আক্রমণসহ বড় আকারের ডিজিটাল ঝুঁকি ও প্রতারণার কৌশল দিন দিন জটিল হচ্ছে। সাইবার অপরাধীদের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এআই ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। মানুষ এখন ব্যাকিং থেকে শুরু করে কেনাকাটা, অফিস, শিক্ষা—সবকিছু প্রায় অনলাইনে করছে। ফলে হ্যাকারদেরও সুযোগ বেড়েছে।’

তবে তথ্য ফাঁসের ঘটনা শুধু সাইবার অপরাধী নয়, বরং প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করার কারণেও হতে পারে। কানেক্টিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনার প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, দুই বছরের মধ্যে এআই-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ৪০ শতাংশের বেশি ঘটবে বিভিন্ন দেশে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির ভুল বা নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে।

যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ বেড়েছে, তবে এসব ঘটনায় মুক্তিপণ দেয়া উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেইন অ্যানালাইসিস জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে গত বছর ভুক্তভোগীরা প্রায় ৮১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম।

চেইন অ্যানালাইসিসের সর্বশেষ ক্রিপ্টো ক্রাইম রিপোর্ট অনুসারে, ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের পর মুক্তিপণের অর্থের পরিমাণ কমেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মুক্তিপণ দিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিরোধমূলক মনোভাব এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

সাইবার অপরাধীদের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এআই ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।