পাঁচ মহাদেশজুড়ে সাবমেরিন কেবল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। ‘প্রজেক্ট ওয়াটারওয়ার্থ’ নামের কেবলটি ৫০ হাজার কিলোমিটার (৩১ হাজার ৭০ মাইল) দীর্ঘ হবে নিশ্চিত করেছে ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানিটি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ২৪-ফাইবার পেয়ার সাবসি কেবল হিসেবে পরিচিত হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। খবর টেকক্রাঞ্চ।
মেটা বলছে, এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ইন্টারনেট সংযোগ ও গতি উন্নত করা, যা প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল পরিষেবা যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপকে সমর্থন করবে।
প্রজেক্ট ওয়াটারওয়ার্থ কেবল স্থাপনের জন্য অভিনব ও উন্নত রাউটিং সিস্টেম ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছে মেটা। অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কেবলটি সমুদ্রের সাত হাজার মিটার (২৩ হাজার ফুট) গভীরতায় স্থাপন করা সম্ভব হবে। এছাড়া উপকূলের কাছাকাছি অগভীর পানির মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোয় এটি সুরক্ষিত রাখতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এ পদক্ষেপগুলো সমুদ্রতলের প্রতিকূল পরিবেশে কেবলের স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
মেটার নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার গায়া নাগরাজন ও অ্যালেক্স-হান্দ্রাহ আইমে জানান, প্রজেক্ট ওয়াটারওয়ার্থ একটি মাল্টি বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এর লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরো শক্তিশালী করা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনটি নতুন সমুদ্রপথ তৈরি করা হবে, যা উচ্চগতি ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ দেবে। এটি বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্ভাবন ও অন্যান্য ডিজিটাল অগ্রগতির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।
কোম্পানিটি প্রকল্পের খরচ, সময়সীমা ও রুট সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এর আগে গত অক্টোবরে কোম্পানিসংশ্লিষ্ট সূত্র মেটার এ সাবমেরিন কেবল স্থাপনের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিল। ওই সময় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছিল যে প্রকল্পের খরচ প্রায় ২০০ কোটি ডলার হতে পারে এবং এটি সম্পূর্ণভাবে মেটার মালিকানাধীন হবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেটার এ প্রকল্প বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল সংযোগকে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করা পর্যন্ত এর সম্পূর্ণ প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
মেটা ৪৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘২আফ্রিকা’ কেবল প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের দীর্ঘতম সাবমেরিন কেবল হিসেবে পরিচিত। কেবলটি আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার ৩৩টি দেশকে ৪৬টি ল্যান্ডিং পয়েন্টের মাধ্যমে সংযুক্ত করে। প্রকল্পটি টেলিকম ইজিপ্ট, চায়না মোবাইল ইন্টারন্যাশনাল, এমটিএন গ্লোবাল কানেক্ট, অরেঞ্জ, এসটিসি, ভোডাফোন ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ওশান কেবল কোম্পানি (ডব্লিউআইওসিসি)-এর মতো কয়েকটি বড় কোম্পানির অংশীদারত্বে অর্থায়ন করা হয়েছে। তবে প্রজেক্ট ওয়াটারওয়ার্থ হবে মেটার প্রথম সম্পূর্ণ মালিকানাধীন আন্ডারসি কেবল প্রকল্প।
টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন বলছে, গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে হোয়াইট হাউজ। এ বিবৃতিতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে আন্ডারওয়াটার প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করা। এ সময় মেটার ৫০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ প্রজেক্ট ওয়াটারওয়ার্থের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ প্রকল্পের কিছু অংশে ভারতের অর্থায়নের ভূমিকার কথাও বলা হয়েছে।










