বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে নতুন সব বিষয় যুক্ত হচ্ছে ও পরিবর্তন আসছে। শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে উৎপাদন খাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সাল নাগাদ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৬০ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান অটোমেশন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে। সম্প্রতি আইডিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইডিসি ফিউচারস্কেপ: ওয়ার্ল্ডওয়াইড ম্যানুফ্যাকচারিং ২০২৪ প্রেডিকশনস শিরোনামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। অটোমেশন প্রযুক্তির সহা্য়তায় কর্মীদের দক্ষতা ৫০ শতাংশ বাড়বে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অটোমেশন প্রযুক্তি মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো কাজ সম্পাদনে ব্যবহৃত পদ্ধতি। অর্থাৎ আগে মানুষ করেছে এমন কোনো কাজ প্রোগ্রামিং কমান্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পর মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়াই নির্ধারিত মেশিন সেটি সম্পাদন করবে এবং কাজ শেষে ফিডব্যাকও দেবে।
উৎপাদন ও ভোক্তা বাজারের দিক থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে এশিয়া। মন্থর বৈশ্বিক অর্থনীতি, উচ্চ সুদহার, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধের মধ্যেও অঞ্চলটির উৎপাদন খাত প্রবৃদ্ধিতে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে উৎপাদনকারীরা। এর মধ্যে সরবরাহ চেইন সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, সাইবার হামলা, কর্মী সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কোম্পানিগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে।
আইডিসির পূর্বাভাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় অটোমেশন প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর আরো বেশি গতিশীল হবে। এর মাধ্যমে মানুষের হস্তক্ষেপ কমবে এবং স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা তৈরি হবে। যার মাধ্যমে পরিচালন কার্যক্রম আরো ফলপ্রসূ হবে। জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার শুরু হওয়ায় উৎপাদনকারীরা নতুন করে ব্যবসা বিস্তারের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে এবং পরবর্তী স্তরে কাজ করার বিষয়ে ভাবছে। এর মধ্যে বেশকিছু বিষয় রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তিগত পণ্যের প্রচার ও বিক্রি বাড়তে ৪০ শতাংশ এশিয়াভিত্তিক ২০০০ উৎপাদনকারী এআই বা মেশিন লার্নিং (এমএল) ব্যবহার করবে। ৪০ শতাংশের বেশি কোম্পানি তাদের পরিচালন কার্যক্রমকে জেনএআইয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে আরো তথ্য সংযোজন, সমস্যা চিহ্নিতকরণসহ কর্মদক্ষতা ৫ শতাংশ বাড়ানো যাবে।
অন্যদিকে
২০২৮ সালের মধ্যে শিল্প খাতের পরিচালন কার্যক্রমে যুক্ত রোবোটিক ও অটোমেশন প্রযুক্তিতে
এআই বা মেশিন লার্নিংয়ের
ব্যবহার ৩০ শতাংশের বেশি
ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৬ সালের মধ্যে
পরিচালনগত কার্যক্রমে অটোমেশন ও জেনএআইয়ের ব্যবহার
নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে ২০২৭-২৯ সালের মধ্যে
এআইচালিত রোবোটিক্স ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে
অটোমেশন নিয়ে কাজ করবে বিভিন্ন কোম্পানি। আইডিসির প্রতিবেদনে আরো বেশকিছু ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর উদ্যোগের বিষয়ে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৭
সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কোম্পান
স্বয়ংক্রিয় সার্ভিস পার্টস ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করছে। ২০২৫ সাল নাগাদ ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান
ডিজিটাল কমার্স প্লাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ২০২৭ সাল
নাগাদ ২০ শতাংশের বেশি
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) চিফ ইকোসিস্টেম অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। আইডিসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ম্যানুফ্যাকচারিং ইনসাইটস বিভাগের গবেষণা পরিচালক ড. ওয়াই ইয়ে
লি বলেন, ‘এশিয়া/প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্মাতারা একটি ডিজিটাল ব্যবসায়িক মডেল গ্রহণ করছে। যার লক্ষ্য হচ্ছে আয় বাড়ানো, ঝুঁকি
ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনগত স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করা।’










