বিশ্বের অধিকাংশ দেশে খেলাটির নাম ‘ফুটবল’। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দুই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এটি বেশি পরিচিত সকার নামে। অনেকের ধারণা, সকার আমেরিকানদের উদ্ভাবিত শব্দ। কিন্তু বাস্তবে ফুটবল খেলার মতো শব্দটিরও জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডেই।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক স্টেফান সিজমানস্কির বলেন, ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডে ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহার করা একেবারেই স্বাভাবিক ছিল। পরে শব্দটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও এটি ব্রিটেনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।

অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল থেকে সকার

১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ডে দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর খেলাটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয়া হয় অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল। এর উদ্দেশ্য ছিল এটিকে রাগবি ফুটবল থেকে আলাদা করা।

ওই সময় অক্সফোর্ড ও অন্যান্য অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ ছোট করে শেষে ‘ইআর’ যোগ করার প্রবণতা ছিল। যেমন ব্রেকফাস্ট থেকে ব্রেকার এবং রাগবি থেকে রাগার।

একইভাবে অ্যাসোসিয়েশন শব্দের মাঝখান থেকে এসওসি অংশ নিয়ে তার সঙ্গে ‘ইআর’ যোগ করে তৈরি হয় ‘সকার’ শব্দটি।

গবেষকদের মতে, শব্দটির উৎপত্তি মূলত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই।

কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে শব্দটি?

ঊনিশ শতকের শেষ দিকে ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘সকার’ শব্দটিও ব্রিটেনের বাইরে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সেখানে ফুটবল বলতে বোঝানো হয় আমেরিকান ফুটবলকে, যার শিকড় রাগবি খেলায়। ফলে দুটি খেলার মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে সকার নামটি প্রচলিত হয়ে যায়।

ব্রিটেনেও একসময় সকার জনপ্রিয় ছিল

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটিশ সংবাদপত্রগুলোও ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত নিয়মিত সকার শব্দটি ব্যবহার করত। পরে ধীরে ধীরে ফুটবল শব্দটি জনপ্রিয়তা পেলে, সকার শব্দের ব্যবহার কমে যায়।

বর্তমানে অনেক আমেরিকান ব্রিটিশদের সঙ্গে কথা বলার সময় সকার বলার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। তবে সিজমানস্কির মতে, এর প্রয়োজন নেই। কারণ সকার আসলে একটি ইংরেজি শব্দ।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের বলি, সকার শব্দটি নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে। এটি আমেরিকানদের নয়, ইংরেজদেরই তৈরি করা শব্দ।‘

অর্থাৎ, আজ যে শব্দটিকে অনেকেই আমেরিকান মনে করেন, তার জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রদের মুখে—প্রায় দেড় শতাব্দী আগে।