ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে মঙ্গলবার রাতে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচটি রূপ নেয় নকআউটে। জিতলেই শীর্ষ দুইয়ে উঠে যাবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, হারলে খেলতে হবে এলিমিনেটর —এমন সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নামেন বিরাট কোহলিরা। এ ম্যাচে আবার ঋষভ পন্তের সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ২২৭ রানের সৌধ গড়ে লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্ট। তবে অদম্য বেঙ্গালুরুকে আটকাতে পারেনি পন্তের দল। ৮ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের অভাবনীয় জয় তুলে নিয়ে কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করেছে বেঙ্গালুরু।

১৪ রাউন্ড শেষে পাঞ্জাব ও বেঙ্গালুরু উভয় দলেরই ঝুলিতে সমান ১৯ পয়েন্ট। নিট রানরেটে সামান্য ব্যবধানে বেঙ্গালুরুকে (০.৩০১) পেছনে ফেলেছে পাঞ্জাব (০.৩৭২)।

৩৩ বলে ৮৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে বেঙ্গালুরুকে জয় এনে দেন জিতেশ শর্মা। ৮ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। মায়াঙ্ক আগারওয়াল ২৩ বলে ৪১ রান করে তার সঙ্গে অপরাজিত থাকেন। ১২৩ বলে চতুর্থ উইকেট পতনের পর এ দুজন ৪৫ বলে ১০৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে ৬১ বলে ১১ বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায় ১১৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে লক্ষ্ণৌকে বিশাল সংগ্রহ এনে দেন অধিনায়ক পন্ত। মিচেল মার্শ ৩৭ বলে ৬৭ রান করেন। এরপর বিরাট কোহলি (৩০ বলে ৫৪) ও ফিল সল্ট (১৯ বলে ৩০) দারুণ সূচনা এনে দিলেও কাছাকাছি সময়ে তিন-চারটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বেঙ্গালুরু। সেখান থেকে বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে বেঙ্গালুরুকে জেতান জিতেশ ও আগারওয়াল।

দিগবেশ রাথির করা ১৭তম ওভারের প্রথম বলে আয়ুশ বাদোনিকে ক্যাচ দিয়েছিলেন জিতেশ। তখন তিনি ৪৯ রানে ব্যাট করছিলেন। আউট হয়েছেন ধরে নিয়ে হতাশায় হাঁটুর ওপর ভর করে বসে পড়েন তিনি। যদিও পরে দেখা গেল ‘নো বল’। এভাবে জীবন পেয়ে পরে বেঙ্গালুরুর জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন জিতেশ। এর পরের ১২ বলে ৩৬ রান করে বেঙ্গালুরুকে মহামূল্যবান এক জয় এনে দেন।

বেঙ্গালুরুর এ জয়ের মধ্য দিয়ে প্লে-অফের লাইনআপও চূড়ান্ত হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার মুল্লানপুরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে দ্বিতীয় স্থানধারী পাঞ্জাব কিংসের মুখোমুখি হবে বেঙ্গালুরু। পরদিন একই মাঠে এলিমিনেটর ম্যাচে লড়বে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও গুজরাট টাইটানস। ১ জুন আহমেদাবাদে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার, ৩ জুন একই মাঠে ফাইনাল।