পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতি নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যায় বাংলাদেশ, পরে যার সঙ্গে আরেকটি ম্যাচ যুক্ত করে তিন ম্যাচের সিরিজ করা হয়। র্যাংকিংয়ে ১৫ নম্বর দলটিকে হেসেখেলে হারাবে ৯ নম্বর র্যাংকধারী বাংলাদেশ—এমন ভাবনাই হয়তো ছিল লিটন দাসদের। কিন্তু পরিকল্পনামতো হলো না। সোমবার রাতে শারজায় উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ২০৬ রানের টার্গেট তাড়া করে ২ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। উজ্জীবিত আমিরাতিদের কি থামাতে পারবে বাংলাদেশ? বুধবার একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। এখন সিরিজ জয়ের সুযোগ আছে দুই দলেরই।
রেকর্ড গড়ে জিতেছে আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ ছাড়াও দুই জাতির সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অতীতে কখনই কোনো দল দুশো রান তাড়া করে জিততে পারেনি। এর আগে সর্বোচ্চ ১৮৪ রান তাড়া করে জিতেছিল শ্রীলংকা। ২০২২ সালের এশিয়া কাপে ১৮৪ রান করে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল সিংহলিজরা। এবার বাংলাদেশকে হারিয়ে সেই রেকর্ড ভাঙল আরব আমিরাতিরা। এছাড়া যেকোনো ফরম্যাটে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয়।
বাংলাদেশকে প্রায় একাই হারিয়ে দিয়েছেন আমিরাতি অধিনায়ক মুহাম্মাদ ওয়াসিম। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিন তিনটি সেঞ্চুরির এ মালিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪২ বলে ৮২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন ৯টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে। মুহাম্মাদ জোহাইব ৩৪ বলে ৩৮ ও শেষ দিকে হায়দার আলী ৬ বলে ১৫ রান করে আরব আমিরাতকে জিতিয়েছেন।
ওয়াসিমের ঝড়ের মুখে তানজিম হাসান সাকিব (৩.৫ ওভারে ৫৫ রান), নাহিদ রানা (৪ ওভারে ৫০ রান), তানভীর ইসলাম (৪ ওভারে ৩৭ রান) খরচ করেছেন। ওয়াসিম এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৬ বলে ১১২ ও ৬২ বলে ১০৭ এবং ওমানের বিপক্ষে ৫৬ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এবার বাংলাদেশকে হারানোর পথেও খেললেন দারুণ এক ক্যাপ্টেনস নক।
জয় শেষে ওয়াসিম বলেন, ‘আমি নির্বাক। বাংলাদেশকে হারিয়ে অনেক আনন্দিত। দলের পারফরম্যান্সেও খুশি। আমি সবাইকে বলছিলাম যে, এই স্কোরটা আমরা চেজ করতে পারব, কারণ শারজার কন্ডিশন আমাদের জানা।’
ওয়াসিম ছাড়াও আসিফ খান, রাহুল চোপড়া, হায়দার আলী ও আলিশান শরাফুর মতো হার্ড হিটার রয়েছে আরব আমিরাত দলে। একঝাঁক আত্মবিশ্বাসী ব্যাটার রয়েছে বলেই টানা দুই ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান চেজ করার সাহস দেখাতে পেরেছে তারা। প্রথম ম্যাচে হারলেও লড়াই করেছে, আর দ্বিতীয় ম্যাচে তো জিতেই যায়। এবার তৃতীয় ম্যাচেও কি দেখা যাবে আমিরাতি রূপকথা? নাকি সিরিজটা জিতে নেবে বাংলাদেশ?










