বলিউডের কমেডি যুগের অন্যতম সফল সিনেমা ‘হেরা ফেরি’। প্রিয়দর্শনের এ সিনেমার সিকুয়াল ‘ফির হেরা ফেরি’ও জনপ্রিয় হয়েছিল। ২০০৬ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। প্রায় ২০ বছর পর এ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমা আনার পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। কিন্তু এর নির্মাণ নানা জটিলতায় পড়েছে। প্রথমে ছিল আইনি জটিলতা। এরপর অভিনেতাদের মধ্যে তৈরি হয় অসন্তোষ। সিনেমাটি ফ্লোরেই গড়াতে পারছে না। সর্বশেষ এ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। বিষয়টি প্রিয়দর্শন, অক্ষয়সহ সবাইকে বেদনার্ত করেছে।

সম্প্রতি বিষয়গুলো নিয়ে মিড-ডের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রিয়দর্শন। সিনেমা থেকে পরেশ রাওয়ালের বিদায় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই মর্মাহত যে তিনি সিনেমাটি ছেড়ে গেলেন। কেবল সেটাই নয়, তিনি আমাদের কাউকে আগে থেকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। তিনি মিডিয়ার কাছে জানানোর আগে আমাকে একটা ফোন করে বলতে পারতেন। আমরা তো বহুদিনের বন্ধু। গত সপ্তাহেও ভূত বাংলার শুটিং করেছি একসঙ্গে।’

পরেশ রাওয়াল গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যে তিনি হেরা ফেরি থ্রিতে অভিনয় করবেন না। এ নিয়ে পরে তিনি প্রিয়দর্শনকে বলেন, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তোমাকে আমি সম্মান করি। নিজস্ব কারণেই সিনেমাটি থেকে সরে যাচ্ছি।’

এ ঘটনার পর অনেকে বলা শুরু করেছেন অক্ষয় কুমার পরেশ রাওয়ালের চরিত্রের ব্যাপ্তি কমানোর চেষ্টা করেছেন। এ নিয়ে প্রিয়দর্শন বলেন, ‘আমার সঙ্গে কোনো কাজে অক্ষয় কারো চরিত্রের ব্যাপ্তি কমায়নি বা স্ক্রিনটাইম কাটেনি। সে পরিচালকের স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্তে সায় দেয়।’

আরেকটি সন্দেহ উঠেছিল যে পারিশ্রমিক নিয়ে বনিবনা হয়নি পরেশ রাওয়ালের সঙ্গে। কিন্তু সে সন্দেহও উড়িয়ে দিয়েছেন প্রিয়দর্শন। তিনি বলেন, ‘পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। ১০ দিন আগে সুনীল, পরেশ ও অক্ষয় একটা শুট করেছিল আইপিএল টিজারের। অক্ষয় নিজে এ সিনেমার স্বত্ব কিনেছে। সে পরেশের এ সিদ্ধান্তে বেদনার্ত। আমাকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে প্রশ্ন করেছিল যে পরেশ কেন এমন কাজ করল। আমার কাছে উত্তর ছিল না। তবে আমার মনে হয়, পরেশের বিদায়ের কারণে অক্ষয়ের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেটা যেন না হয়, তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করাই আমার দায়িত্ব।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস