বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ আসর ঘিরে টিনসেল টাউনে এখন টানটান উত্তেজনা। বেশকিছু বিভাগে লড়াই এতটাই হাড্ডাহাড্ডি যে শেষ মুহূর্তে বাজির দর ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। আজ রাতে উপস্থাপক কোনান ও’ব্রায়েনের হাতে থাকা খাম থেকে কার নাম বের হবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে মেতেছে আন্তর্জাতিক সব সংবাদমাধ্যম।
সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে লড়াইটা হবে সিনার্স বনাম ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদারের। অস্কারের ইতিহাসে প্রায়ই দেখা যায় লড়াইটা মূলত দুটি সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। গোল্ডেন গ্লোব জয়ের পর মনে হচ্ছিল লড়াইটা হবে ‘হ্যামনেট’ ও ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’-এর মধ্যে। কিন্তু দৌড়ে হ্যামনেট পিছিয়ে পড়ায় এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’। বাফটা ও স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ডে পুরস্কার জিতে এটি এখন টপ ফেভারিট। ইতিহাস বলছে, এসএজি এনসেম্বল পুরস্কার যার ঝুলিতে থাকে, অস্কারের রাতে তার জয় একরকম নিশ্চিত। যদি সিনার্স সেরা চলচ্চিত্রের খেতাব পেয়ে যায়, তবে তা হবে অস্কারের ইতিহাসে প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী প্রযোজকের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জয়ের রেকর্ড।
যদিও পাল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এক মাস্টারপিস। এতে অভিবাসী ও আইন-শৃঙ্খলার সংঘাত নিয়ে অত্যন্ত সমসাময়িক বিষয়বস্তু পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক। গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা, ডিজিএ ও পিজিএর মতো বড় সব পুরস্কার জিতে পরিসংখ্যানের বিচারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে এ পলিটিক্যাল-অ্যাকশন এপিক। অস্কার ইতিহাসে আজ পর্যন্ত এমন রেকর্ডধারী সিনেমা কখনো হারেনি।
এবারের আসরে পল থমাস অ্যান্ডারসনের আক্ষেপ ঘুচতে পারে। ১৪ বার মনোনয়ন পেলেও এখন পর্যন্ত সেরা পরিচালকের পুরস্কার পাননি তিনি। এবার তার পাল্লাই ভারী। ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার সিনেমায় বাবা-মেয়ের আবেগ, অ্যাকশন আর কমেডির যে মিশেল তিনি ঘটিয়েছেন, তা অতুলনীয়। বাফটা ও ডিরেক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড জিতে তিনি অনেকটা এগিয়ে। রায়ান কুগলার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এবার হয়তো অ্যান্ডারসনের আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে।
জেসি বাকলি হয়ে যেতেই পারেন সেরা অভিনেত্রী। এবারের অস্কারে সবচেয়ে নিশ্চিত বিভাগ ধরা হচ্ছে সেরা অভিনেত্রীকে। হ্যামনেট সিনেমায় শেকসপিয়রের স্ত্রীর চরিত্রে জেসি বাকলির অভিনয় সবাইকে মুগ্ধ করেছে। যদিও রোজ বায়ার্ন বা রেনাতে রেইনসভে দুর্দান্ত কাজ করেছেন, তবে বাকলির জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সেরা অভিনেতা বিভাগে এবার তরুণ তুর্কিদের লড়াই। এবারের অস্কারে সেরা অভিনেতা বিভাগটি রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারে পরিণত হয়েছে। সম্ভাব্য বিজয়ীর সমীকরণ যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে অস্কারের মঞ্চে শেষ হাসি এখন আর কেবল প্রতিভার ওপর নয়, বরং ‘মোমেন্টাম’ বা গতির ওপর নির্ভর করছে।
ডিসেম্বর পর্যন্ত মনে হচ্ছিল টিমোথি শালামে সহজেই অস্কার জিতবেন। কিন্তু সিনার্স সিনেমায় যমজ ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করে পাশা উল্টে দিয়েছেন মাইকেল বি জর্ডান। একাডেমি সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং বা দ্বৈত চরিত্র পছন্দ করে।
শালামে ‘মার্টি সুপ্রিম’ দিয়ে সেরা অভিনেতার দৌড়ে থাকলেও জর্ডানের সাম্প্রতিক বাফটা ও এসএজি জয় মাইকেল বি জর্ডানকে এগিয়ে রেখেছে। তবে সমালোচকদের বিচারে ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’-এর ভাগনার মৌরা-ও চমক দেখাতে পারেন।
সেরা পার্শ্ব অভিনেতার লড়াইটা দুই প্রবীণের। ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদারে খলচরিত্রে অভিনয় করে শন প্যান এগিয়ে আছেন। তবে ৭৪ বছর বয়সী স্টেলান স্কার্সগার্ড এখনো কোনো অস্কার পাননি, তাই ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’র জন্য তিনি সম্মানসূচক ভোট পেয়ে যেতে পারেন।
এবারের সবচেয়ে অনিশ্চিত ক্যাটাগরি সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী। অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্যের এ লড়াইয়ে রয়েছেন অ্যামি ম্যাডিগান ও টোয়ানা টেইলর। পর্দায় টেইলরের পারফরম্যান্সে যে তেজ, তা তাকে এগিয়ে রাখতে পারে। তবে বাফটা জয়ী উনমি মোসাকু বড় কোনো অঘটন ঘটিয়ে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
নজর থাকবে সেরা অ্যানিমেটেড ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগেও। অ্যানিমেটেড বিভাগে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘কে-পপ ডিমন হান্টার্স’ অস্কার জিতবে বলে শতভাগ নিশ্চিত সিনেমাপ্রেমীরা। অন্যদিকে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের লড়াইটা হচ্ছে ব্রাজিলের দ্য সিক্রেট এজেন্ট ও নরওয়ের সেন্টিমেন্টাল ভ্যালুর মধ্যে।
বিবিসি অবলম্বনে শামীমা ইসলাম










