মুক্তির পর পরই দর্শকের ব্যাপক আগ্রহে সিনেমাটি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় সিনেমাটির প্রদর্শনী সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। এ ঘটনাকে বাংলা সিনেমার জন্য বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দম সাতটি হল থেকে বেড়ে ৫০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। একই দিনে কানাডার আরো আটটি হলে শুরু হয়েছে সিনেমাটির প্রদর্শনী। অর্থাৎ উত্তর আমেরিকাজুড়ে মোট ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে দম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো বিষয়টি ঘটেছে শুধু দর্শকের চাহিদার কারণে, যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বাংলা সিনেমার প্রতি আগ্রহের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটি পরিবেশন করছে বাইস্কোপ ফিল্মস। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রাজ হামিদ বলেন, ‘সিনেমা হলের সংখ্যা অবিশ্বাস্য রকমের বাড়ার একমাত্র কারণ দর্শক চাহিদা। এছাড়া আর কোনোভাবে এটা সম্ভব নয়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে দর্শক দম দেখতে প্রেক্ষাগৃহে আসছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম সিনেমার ক্ষেত্রেই দেখা যায়।’

এদিকে সিনেমাটির মুক্তি ও প্রচার উপলক্ষে পরিচালক রেদওয়ান রনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন এবং দর্শকের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। একাধিক শোয়ে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন ও সাংবাদিক রোজিনা ইসলামসহ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। প্রদর্শনী শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে রেদওয়ান রনি দর্শকের প্রতিক্রিয়া সরাসরি শোনেন।
সিনেমাটি দেখে দর্শক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। প্রবাসী দর্শক খান মোহাম্মদ আলী তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘রেদওয়ান রনি যে এত সুন্দর চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারেন, দম না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।’ প্রেক্ষাগৃহে আসা দর্শক বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরীর অভিনয়ের। অনেকের মতে, সিনেমাটির ভিজুয়াল, গল্প ও অভিনয় ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ এবং এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ এটিকে বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
দর্শকের এমন প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বসিত পরিচালক রেদওয়ান রনি বলেন, ‘যেখানেই গিয়েছি, সবাই যেভাবে স্বাগত জানিয়েছেন, তা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের সিনেমা দেখার যে আকাঙ্ক্ষা, তা নির্মাতা হিসেবে আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাদের ভালোবাসা পেয়ে আমারও মনে হচ্ছে দম জিতে গিয়েছে। দর্শক দমকে জিতিয়ে দিয়েছেন।’
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে এসবিএফ আলফা আই ও চরকি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘ঈদুল ফিতরে দম ছিল বিগেস্ট ওপেনার। প্রথম দিন থেকেই দাপট দেখাচ্ছে এবং দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাতটি থিয়েটার থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে ৫০টি হলে উন্নীত হওয়া প্রমাণ করে দর্শক চাহিদাই এর মূল শক্তি।’
‘আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ ট্যাগলাইন নিয়ে নির্মিত এ সিনেমার চিত্রনাট্যে রেদওয়ান রনির সঙ্গে কাজ করেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও রবিউল আলম রবি। দেশীয় সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দম নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। দর্শকের ভালোবাসা আর চাহিদাই প্রমাণ করছে—বাংলা সিনেমা এখন বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের জায়গা করে নিতে প্রস্তুত।










