গতকাল ছিল রণবীর সিংয়ের জন্মদিন। সেদিনই তার নতুন সিনেমা ধুরন্ধরের ফার্স্ট লুক দেখা যায়। সিনেমার পরিচালক আদিত্য ধর। এর আগে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। ব্যবসাসফল, সমালোচক ও দর্শক প্রশংসিত সিনেমাটির পর প্রায় ছয় বছর নীরব ছিলেন তিনি। এবার নিয়ে এলেন ঐতিহাসিক পটভূমিতে অ্যাকশন ড্রামা। সিনেমাটি ধুরন্ধর আর সেটি নির্মাণে ধুরন্ধরের মতোই কাজ করেছেন তিনি। সিনেমাটির গল্পের প্রয়োজনে পাকিস্তানের উপস্থাপনা প্রয়োজন ছিল আর তিনি পাকিস্তানের সেট তৈরি করেন থাইল্যান্ডে।

অনেক দিন ধরেই বলিউডের সিনেমার সেট ফালানো হচ্ছে থাইল্যান্ডে। এছাড়া সিঙ্গাপুরেও শুটিং হয়। তবে থাইল্যান্ড সিনেমা নির্মাতাদের অন্যতম পছন্দের শুটিং স্পট। বলিউডের জনপ্রিয় অনেক সিনেমার শুটিং সেখানে হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখ করার মতো সিনেমাগুলো হলো ওয়ান্টেড (২০০৯), রেডি (২০১১), স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার (২০১২), হাউজফুল টু (২০১২), এক থা টাইগার (২০১২), এন্টারটেইনমেন্ট (২০১৪), বাগী টু (২০১৬), বার বার দেখো (২০১৬), জংলী (২০১৯) ইত্যাদি। এছাড়া কবির খানের দ্য ফরগটেন আর্মি ও রোহিত শেঠির সূর্যবংশীরও শুটিং হয়েছিল সেখানে। এবার তাই থাইল্যান্ডকেই বেছে নেন আদিত্য ধর।

17

কারণ এশিয়ার কোনো দেশকে পাকিস্তানের মতো করে কল্পনা করা কঠিন। কারণ সে রকম ভূ-প্রকৃতি কোথাও নেই। মজার ব্যাপার, থাইল্যান্ডের সঙ্গেও পাকিস্তানের মিল নেই। কিন্তু নির্মাতারা বিষয়টি মাথায় রেখে সব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বলিউড হাঙ্গামা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, ‘নির্মাতারা সব ধরনের ব্যবস্থাই নিয়েছেন যেন সেটকে পাকিস্তান বলে মনে হয়। ট্রেলার দেখলে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।’

কিন্তু থাইল্যান্ডেই কেন? এ বিষয়ে বলিউড হাঙ্গামার বয়ান, থাইল্যান্ড কেবল সমুদ্রসৈকতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেখানে আরো কিছু সুবিধা আছে। থাই সরকার সিনেমার শুটিংয়ের জন্য বেশকিছু সুবিধা দেয়। ধুরন্ধর নির্মাণের সময়ও সিনেমার নির্মাতাদের সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে থাই সরকার। তারা সিনেমাটি নির্বিঘ্নে নির্মাণ করতে পেরেছেন।’

কেবল বলিউডের সিনেমাই নয়। অনেক হলিউডের সিনেমাও এখন শুট করা হয় থাইল্যান্ডে। সাম্প্রতিক এমন সিনেমার মধ্যে আছে জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ। এছাড়া নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় শো দ্য হোয়াইট লোটাসেরও শুটিং হয়েছিল ব্যাংককে। মূলত থাইল্যান্ড এখন সিনেমা নির্মাতাদের প্রিয় শুটিং স্পটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা