হলিউডের এবার গ্রীষ্মকালীন হিট ছবিগুলোর মধ্যে অনেকে একটি মিল পেয়েছেন। ঘরানা যা-ই হোক বক্স অফিসে তোলপাড় করা সিনেমাগুলো হয় রিমেক, সিক্যুয়েল বা কোনো না কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ। তবে হলিউড নতুন গল্পের কদর করেন না, এমন ধারণার বিপরীত প্রমাণ রয়েছে এবারের সামার ব্লকবাস্টারে। সেই ধারা ক্ষীণ হলেও একেবারে নিরাশ হতে হচ্ছে না, এটাই হলো বলার বিষয়।
সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সিক্যুয়েল বা রিমেকের প্রতি বোদ্ধাদের তাচ্ছিল্য থাকলেও বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-জুন) ধীরগতির পর উত্তর আমেরিকার স্থানীয় বক্স অফিসকে কার্যকরভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে এসব ছবি। সিনেমার বাণিজ্যিক তথ্য পরিষেবাদাতা কমস্কোরের সিনেমা, মে থেকে শুরু হওয়া গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে হলিউড সিনেমা স্থানীয় বাজারে আয় করেছে ৩২৬ কোটি ডলার।
গ্রীষ্মের শুরুতে দর্শক টানার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ে মেমোরিয়াল ডে রিলিজ ডিজনির লাইভ-অ্যাকশন রিমেক ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ ও ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিরিজের অষ্টম কিস্তি। কিছু শিল্প বিশ্লেষক এখন মজার ছলে এ জুটিকে ‘স্টিচপসিবল’ নামে ডাকছে। এর মধ্যে ‘মিশন ইম্পসিবল- দ্য ফাইনাল রেকনিং’ উত্তর আমেরিকায় প্রায় ২০ কোটি ডলার আয় করলেও মৌসুমের আসল তারকা ছিল ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’। সিনেমাটি স্থানীয় বাজারের ৪২ কোটি ১০ লাখের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।

লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ সিনেমার দৃশ্য ছবি: ডিজনি
অ্যাকশন ছবি ও শিশুতোষ ছবিকে নতুন করে তুলে ধরা হলিউড স্টুডিওগুলোর পুরনো অভ্যাস। কিন্তু এবার পুরনো কমেডিগুলোকেও রিমেক বা সিক্যুয়েল আকারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ ঘরানার সিনেমা বক্স অফিসে তেমন সফল হয়নি। আগের কিস্তির ৩১ বছর পর মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহান্তে প্যারামাউন্টের ‘দ্য ন্যাকেড গান’ আয় করেছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অন্যদিকে ২২ বছর আগে মুক্তি পা্ওয়া ফ্রিকি ফ্রাইডে’ সিক্যুয়েল ‘ফ্রিকিয়ার ফ্রাইডে আয় করেছে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
বক্স অফিস থিওরির প্রতিষ্ঠাতা শ’ন রবিন্সের মতে, ৩০ বছরের নস্টালজিয়া কাজে লাগিয়ে দর্শক টানার ক্ষেত্রে ডিজনি অন্যতম উদাহরণ। তার মতে, পুরনো জনপ্রিয় সিনেমার রিমেক বা সিক্যুয়েল তরুণ দর্শককে নতুনভাবে আকৃষ্ট করছে। অন্যদিকে যারা ছোটবেলায় বা তরুণ বয়সে এই গল্পগুলো দেখেছে সেই মিলেনিয়াল প্রজন্মকে টানছে এবং তারা এখন সন্তানদের সঙ্গে আবার দেখতে চায়।
কমস্কোরের সিনিয়র বিশ্লেষক পল ডেরগারাবেডিয়ান জানান, এ গ্রীষ্মের বেশিরভাগ হিট ছবি মৌলিক নয়। তবে এ মৌসুমের প্রধান ভোক্তা পারিবারিক দর্শকদের জন্য এ ধরনের সিনেমা বিশেষ কার্যকর। কারণ তারা সাধারণত প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি দেখতে বেশি পছন্দ করে।
বড় পর্দায় ভিজ্যুয়াল এফেক্ট দেখতে চাওয়া দর্শকের কাছে এখনো সুপারহিরো ছবি জনপ্রিয়। ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ এক সময় দর্শক টানতে না পারলেও এবারের গ্রীষ্মে ডিজনি ও মার্ভেলের রিবুটটি দেশীয় বাজার ২৩ কোটি ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে ওয়ার্নার ব্রস পিকচার্স ও ডিসি স্টুডিওর ‘সুপারম্যান’ রিমেক আয় করেছে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। যা দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই নতুন সূচনা দিয়েছে।
সিনেমা বিষয়ক নিউজলেটার ফ্র্যাঞ্চাইজিরের প্রকাশক ডেভিড এ গ্রসের মতে, সিক্যুয়েল ও রিমেকের অনেক সহজাত সুবিধা আছে। এসব সিনেমা সম্পর্কে দর্শক আগে থেকেই জানে। যা আগ্রহী দর্শককে হলে টেনে আনতে সাহায্য করেন।
এ ধারায় আগামী মাসের শুরুতে মুক্তি পাবে ওয়ার্নার ব্রসের ‘দ্য কনজুরিং: লাস্ট রাইটস’।

‘সুপারম্যান’ ছবির দৃশ্য ছবি: ভ্যারাইটি
এবার শিরোনামের পক্ষে কিছু বলা যাক। চলতি গ্রীষ্মের সব ব্লকবাস্টারই যে পুরোনো সিনেমা থেকে ধার করা, তা নয়। যেমন গত সপ্তাহান্তের নাম্বার ওয়ান ছবি ছিল একটি মৌলিক চলচ্চিত্র, যা জনপ্রিয় ঘরানার কারণে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। ওয়ার্নার ব্রসের মিস্ট্রি-হরর ‘ওয়েপনস’ সপ্তাহান্তে ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার আয় করেছে। এর আগে এপ্রিলে একই স্টুডিওর মৌলিক হরর ‘সিনার্স’ দেশীয় বক্স অফিসে ২৭ কোটি ডলার আয় করেছে। ডেরগারাবেডিয়ান বলেন, ‘দর্শকরা হরর পছন্দ করে। মৌলিক হরর হলে আরো বেশি পছন্দ করে।’
যে সিনেমার কথা না বললেই নয়। ওয়ার্নার ব্রস পিকচার্স রেসিং ড্রামা ‘এফওয়ান’ দিয়ে দেশীয় বাজার থেকে সম্মানজনক ১৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে সেই অঙ্ক ৫৭ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রবিন্সের মতে, সিনার্স, ওয়েপনস ও এফওয়ানের ব্যবসার মধ্যে হলিউডের জন্য বার্তা রয়েছে। নির্মাতাদের আরো বেশি ঝুঁকি নেয়া উচিত। কারণ এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে দর্শকদের মধ্যে মৌলিক ছবির জন্য ক্ষুধা রয়েছে।
ডেরগারাবেডিয়ানের মতে, রিমেক ও সিক্যুয়েলের আধিক্য থাকলেও হলিউডে এ গ্রীষ্ম ছিল মৌলিক ছবির জন্য পরীক্ষাক্ষেত্র। যেখানে সব ধারা একসাথে মিলে গেছে এবং সফল হয়েছে।
তবে এবারের গ্রীষ্ম মৌসুমেও এমন রিমেক, সিক্যুয়েল ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি কিস্তি ছিল যেগুলো বড় দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। যেমন ‘জন উইক’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ব্যালেরিনা’, ‘ক্যারাটে কিড: লিজেন্ডস’ ও ‘মেগান ২.০’। এ বিষয়ে রবিন্স বলেন, ‘এ গ্রীষ্ম অনেক দিক থেকেই ছিল হয় ভরপেট ভোজ নয়তো একেবারেই অনাহার।’










