ভিন্নধর্মী গল্পে কাজ করার আগ্রহ আর সাবলীল অভিনয়ের জন্য এরই মধ্যে দর্শকের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। এবার ঈদকে সামনে রেখে বড় বাজেটের সিনেমা প্রিন্সে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখছেন এ অভিনেত্রী।

ঈদ উপলক্ষে জমে উঠেছে বড় বাজেটের প্রিন্স সিনেমার শুটিং। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন শাকিব খান। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার তার সঙ্গে পর্দা ভাগ করছেন তাসনিয়া ফারিণ। বর্তমানে শুটিংয়ের জন্য তিনি অবস্থান করছেন ভারতের কলকাতায়।

এর আগে ফারিণ পরিচালক অতনু ঘোষের সিনেমা আরও এক পৃথিবীতে কাজ করেছিলেন। তবে সেটি ছিল নির্দিষ্ট কিছু অংশের কাজ। এবারই প্রথম কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লোকেশনে টানা শুটিং করছেন তিনি। ফলে শহরটিকে আরো কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলছে এ অভিনেত্রীর।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কলকাতার কাজের অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশ-ভারতের শোবিজ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন ফারিণ। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও কলকাতার রূপ-রসে মজেছেন তিনি। বিশেষ করে হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার ক্যাফে সংস্কৃতি তাকে দারুণভাবে টেনেছে।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কাজের ধরনের মধ্যে যেমন মিল খুঁজে পান ফারিণ, তেমনি চোখে পড়ে কিছু অমিলও। তার কথায়, যেহেতু আমরা একই ভাষায় কথা বলি আমাদের কালচার, খাওয়া-দাওয়া সবকিছু অনেক মিল। আমাদের সেন্টিমেন্ট এবং ফ্যামিলি ভ্যালুসের ক্ষেত্রেও আমরা একই সুতোয় গাঁথা বলতে পারি। অমিল বলতে দুই ইন্ডাস্ট্রির প্যাটার্ন বা নিয়মগুলো আলাদা। বাংলাদেশে সিনেমা বা ওটিটির ক্ষেত্রে একটু লং টাইম শুটিং হয়, আর নাটকগুলো খুব তাড়াতাড়ি শুট হয়।

দুই দেশের শিল্পীদের আদান-প্রদান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তাসনিয়া ফারিণ বলেন, ‘দুই দেশের শিল্পীদের কাজের পরিধি আরো বাড়া উচিত। এতে ইন্ডাস্ট্রির পরিসর বৃদ্ধি পাবে এবং ইকোনমিক্যালিও মঙ্গলজনক হবে। যখন দুই দেশ এক হয়ে কাজ করবে তখন আরো বড় বড় সিনেমা তৈরি হবে এবং একটা ওয়াইডার অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছতে পারবে।

শুটিং প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবারই প্রথম কলকাতায় দীর্ঘ সময় শুটিং করছি। এর আগে এখানকার সিনেমায় কাজ করলেও বড় পরিসরে কাজ হয়নি। আরও এক পৃথিবীর সিনেমার বেশির ভাগ শুটিং হয়েছিল লন্ডনে। যে কারণে কলকাতায় কাজ করে নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে।

নতুন কাজের বিষয়ে ফারিণ বলেন, ‘আমি ভিন্ন ধরনের কাজ করতে আগ্রহী। এরই মধ্যে ভিন্ন ঘরানার বেশকিছু সিনেমার প্রস্তাব এসেছে। প্রিন্স সিনেমার পর ওই সিনেমাগুলোতে ফোকাস করব। এছাড়া নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিয়েও ভাবছি। চলতি বছর নতুন গান আসার সম্ভাবনা আছে। কলকাতাতে গান ও নতুন সিনেমার কথা চলছে।’

মাঝে বাংলা সিনেমার ব্যবসা খারাপ গেছে উল্লেখ করে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে। ঈদে দর্শক সিনেমা দেখছেন। মাঝে করোনায় খারাপ গেছে। নতুন ধরনের গল্প বলার আবহ তৈরি হয়েছে। বাংলা সিনেমা নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী।’