নতুন অ্যালবাম ‘‌আরিরাঙ’ প্রকাশের পর পরই উঠে গেছে বিলবোর্ডের এক নম্বরে। শুধু তাই নয়, গত এক দশকের বেশি সময়ে কোনো ব্যান্ডের অ্যালবামের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় বিক্রির রেকর্ড।

অ্যালবামটি প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবাম বিক্রি, স্ট্রিমিং ও গান ডাউনলোড মিলিয়ে ৬ লাখ ৪১ হাজার ইউনিট সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৩২ হাজার কপি অ্যালবাম সরাসরি বিক্রি হয়েছে। সংখ্যাটি এতটাই বড় যে গত বছর টেইলর সুইফটের ‘দ্য লাইফ অব শোগার্ল’ অ্যালবামের পর এটিই সবচেয়ে সফল সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এ সাফল্যের বড় একটি কারণ ভিনিল (রেকর্ড ডিস্ক) বিক্রি। ‘‌আরিরাঙ’-এর ১৭টি ভিন্ন সংস্করণ বাজারে আনা হয়, যার মাধ্যমে ২ লাখ ৮ হাজার ভিনিল কপি বিক্রি হয়েছে। ফলে আধুনিক সময়ে ভিনিল বিক্রির দিক থেকেও এটি অন্যতম বড় অর্জন।

এর আগে ২০১৩ সালে ‘ওয়ান ডিরেকশন’ তাদের ‘মিডনাইট মেমোরিস’ অ্যালবাম দিয়ে বড় বিক্রির রেকর্ড গড়েছিল। অবশ্য বিটিএসের জন্য এটি নতুন কিছু নয়। এর আগেও তারা একাধিকবার বিলবোর্ডের শীর্ষে উঠেছে। ২০১৮ সালে ‘লাভ ইয়োরসেল্ফ: টিয়ার’ ও ‘লাভ ইয়োরসেল্ফ অ্যাসনার’, ২০১৯ সালে ‘ম্যাপ অব দ্য সল: সেভেন’ এবং ২০২২ সালে ‘প্রুপ’-এর মতো অ্যালবামগুলো তাদের বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়েছে। তবে ‘আরিরাঙ’ দিয়ে তারা বিশ্বব্যাপী নতুন করে নিজেদের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, অ্যালবামটি এসেছে তখনই, যখন ব্যান্ডের সব সদস্য তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে আবার একসঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। ফলে ভক্তদের মধ্যে ছিল আলাদা উত্তেজনা।

অ্যালবাম প্রকাশ উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বড় আয়োজন করা হয়। সেখানে একটি বিশেষ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়, যা নেটফ্লিক্সে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। একই সঙ্গে একটি ডকুমেন্টারিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে একই চার্টে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ‘লুকে কমবস’ এবং তৃতীয় স্থানে ‘মরগান ওয়ালেন্স’। তবে বাকিদের সাফল্য টপকে গেছে বিটিএসের এ দুর্দান্ত সাফল্য, যা তাদের ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকল।

বিটিএসের ‘আরিরাঙ’ শুধু একটি সফল অ্যালবামই নয়, বরং তাদের বিশ্বজুড়ে প্রভাব ও জনপ্রিয়তার নতুন প্রমাণ। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসেও তারা যে আগের মতোই শক্ত অবস্থানে আছে, এ সাফল্যর মাধ্যমে সেটিই স্পষ্ট করেছে। ভবিষ্যতেও সংগীতজগতে তাদের এমন দাপট বজায় থাকবে, এটাই এখন ভক্তদের বড় প্রত্যাশা।

উল্লেখ্য, মোট সাত সদস্য নিয়ে গঠিত বিটিএস। তারা হলেন জিন, সুগা, জে-হোপ, আরএম, জিমিন, ভি এবং জাং কুক। দলে এদের প্রত্যেকেরই আলাদা ভূমিকা আছে—কেউ র‍্যাপার, কেউ গায়ক, কেউ পারফরমার—আর সবাই মিলে তৈরি করেছে বিটিএসের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা।

সূত্র: ভ্যারাইটি