সাত দশক ধরে অভিনয়ের সঙ্গে আছেন আবুল হায়াত। শুধু অভিনেতাই নন, তিনি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করছেন দীর্ঘদিন। ক্যারিয়ারে তার অর্জনের শেষ নেই। মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র থেকে বিজ্ঞাপনচিত্র—সব মাধ্যমেই পেয়েছেন সাফল্য। এবার পেলেন নতুন সম্মাননা। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখার জন্য বরেণ্য এ অভিনেতা পেলেন আজীবন সম্মাননা। ‘মেরিল-প্রথম আলো’ পুরস্কার গতকাল তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিকাল ৫টায় তারকাদের পদচারণায় শুরু হয় মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৪। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবীন, প্রবীণ ও খ্যাতিমান সব তারকার পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিরা। লাল গালিচায় পা রেখেছেন তারা বিকাল থেকেই। দেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউজ ও ডিজাইনারদের পোশাক পরে উপস্থিত হন তারা। এরপর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। মন্দিরা চক্রবর্তী, হৃদি শেখ ও তমা মির্জার দলীয় নৃত্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
জমকালো এ অনুষ্ঠানের প্রথম দিকে আজীবন সম্মাননা দেয়ার ঘোষণা দেন উপস্থাপক আফজাল হোসেন। বড় পর্দায় দেখানো হয় আবুল হায়াতের জীবন ও কর্ম নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র। সম্মাননার জন্য নাম ঘোষণার পর আবুল হায়াত মঞ্চে আসেন। এ সময় মিলনায়তন ভর্তি দর্শক স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান। আজীবন সম্মাননা হিসেবে তিনি পান উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও চেক।
আবুল হায়াতের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী দিলারা জামান। এ সময় মঞ্চে ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘ধন্যবাদ প্রথম আলো ও মেরিলকে। ধন্যবাদ প্রিয় অনুজ মতি (প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান) ও অঞ্জন চৌধুরীকে (স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক)। ধন্যবাদ মেরিল-প্রথম আলো পরিবারকে। আমি তোমাদেরই লোক।’
এরপর অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা করা হয় এক-এক করে। ছিল ওটিটি, টেলিভিশন, সিনেমা ও অন্যান্য অঙ্গনের জন্য পুরস্কার। পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয় ওটিটি দিয়ে।
সেরা ওয়েব সিরিজের পুরস্কার জিতল ‘রঙিলা কিতাব’। এ বিভাগে মনোনয়নের তালিকায় ছিল ‘কালপুরুষ’, ‘রঙিলা কিতাব’ ও ‘সিনপাট’। এগুলোর মধ্যে সমালোচক পুরস্কার পেয়েছে রঙিলা কিতাব।

ওয়েব সিরিজ বিভাগে সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার জিতলেন সালজার রহমান। মনোনয়ন পেয়েছিলেন অনম বিশ্বাস ও আশরাফুল আলম শাওন (রঙিলা কিতাবের জন্য), গুলতেকিন খান ও নুহাশ হুমায়ূন (২ষ), সালজার রহমান (কালপুরুষ)
ওয়েব সিরিজ বিভাগে সেরা পরিচালক বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন অনম বিশ্বাস (রঙিলা কিতাব), নুহাশ হুমায়ূন (২ষ), সালজার রহমান (কালপুরুষ)। এ বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন নুহাশ হুমায়ূন। ওয়েব সিরিজ বিভাগে সেরা অভিনেত্রী জিন্নাত আরা (সিনপাট)।
ওয়েব সিরিজ বিভাগে সেরা অভিনেতা মোশাররফ করিম। আধুনিক বাংলা হোটেল সিরিজের জন্য তিনি এ পুরস্কার পান। মনোনয়ন পেয়েছেন এফএস নাঈম (কালপুরুষ), মোশাররফ করিম (আধুনিক বাংলা হোটেল), মোস্তাফিজুর নূর ইমরান (রঙিলা কিতাব)। মোশাররফ করিমের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন পরিচালক কাজী আসাদ।
এখানেই শেষ নয়। নানা জমকালো অনুষ্ঠান ও পারফরম্যান্স চলতে থাকে। তার মাঝেই সিনেমা, সিরিজ ও অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা হয়।










