ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীত অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকাকে পদ্মসম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বলিউডের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে ‘পদ্মবিভূষণ’ (মরণোত্তর) প্রদান করা হচ্ছে। পদ্মবিভূষণ পাওয়া অন্য শিল্পী হলেন বেহালা বাদক এন রাজম। ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে প্রথা অনুযায়ী, রোববার এ বছরের সর্বোচ্চ এ নাগরিক সম্মাননা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ও ব্যতিক্রমী সেবার জন্য সেরা ব্যক্তিদের প্রতি বছর এ সম্মান দেয়া হয়।

এবার পদ্মভূষণ বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিক, অভিনেতা মামুত্তি ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা পীযূষ পাণ্ডে। অন্যদিকে পদ্মশ্রী বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা সতীশ শাহ, আর মাধবন, অনিল রাস্তোগি, অরবিন্দ বৈদ্য, রাজেন্দ্র প্রসাদ, ভারত সিং ভারতী। পশ্চিবঙ্গ থেকে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন চিত্রনায়ক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

পদ্মবিভূষণ ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত। তারপর পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী হলো তৃতীয়। এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত চিত্রনায়ক ধর্মেন্দ্র এর আগে ২০১২ সালে পদ্মভূষণ লাভ করেন। ধর্মেন্দ্রকে পদ্মবিভূষণে ভূষিত করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার পরিবার, স্বজন ও ভক্তরা। তবে আনন্দের পাশাপাশি আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী ও অভিনেত্রী হেমা মালিনী। এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘এ সম্মান ধরমজির আরো আগেই পাওয়া উচিত ছিল।’ তার মতে, ধর্মেন্দ্র শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতাই নন, বরং একজন মানবদরদী মানুষ হিসেবেও আজীবন কাজ করেছেন। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী বলেন, ‘আমি তার জন্য ভীষণ খুশি। একজন অভিনেতা হিসেবে অবদানের জন্য তিনি এ সম্মানের পুরোপুরি যোগ্য। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে কাজ করেছেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদান রেখেছেন।’

মালয়ালম সিনেমার আইকনিক অভিনেতা মামুত্তি এর আগে ১৯৯৮ সালে পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন। ভারতের বাঙালি অভিনেতা প্রসেনজিৎ এর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার পেলেও এবারই প্রথম রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা পেলেন। পদ্মশ্রী তার সাফল্যের ঝুড়িকে আরো উজ্জ্বল করেছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতের বহু বছরের শ্রম, সৃজনশীলতা ও অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি উদাহরণ হয়ে রইল পদ্ম পুরস্কার ২০২৬। ধর্মেন্দ্র, মামুত্তি, অলকা ইয়াগনিক, প্রসেনজিৎ ও অন্য তারকাদের এ সম্মাননা শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতির ধারাবাহিক ঐতিহ্য ও শিল্পচর্চার প্রতি দেশের কৃতজ্ঞতারই প্রতিফলন।