৮ মে ওটিটি প্লাটফর্ম বঙ্গতে মুক্তি পায় আসিফ চৌধুরীর ওয়েব সিরিজ ‘ফ্যাঁকড়া’। এ সিরিজে গোলাপি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিদ্রা নেহা। সিরিজ ও নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

৮ মে বঙ্গতে মুক্তি পেয়েছে আপনার অভিনীত সিরিজ ফ্যাঁকড়া। দর্শকসাড়া কেমন পাচ্ছেন?

সিরিজ দেখার পর সবাই ভালো বলছে। কনটেন্ট হিসেবে সিরিজটি সবার পছন্দ হয়েছে। আমার চরিত্রটাকে সবাই পছন্দ করেছে, কারণ আমাকে সিরিজে একটা ভিন্ন চরিত্রে দর্শক দেখেছে। ফ্যাঁকড়ার প্রতিটি চরিত্রে সবাই যার যার জায়গা থেকে ভালো করেছে। সবার ভালো অভিনয়ের জন্য আমরা একসঙ্গে ফিডব্যাক পাচ্ছি। ফেসবুক খুললেই ফ্যাঁকড়া.. ফ্যাঁকড়া.., খুব ভালো লাগছে যে মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে। আমার খুব ভালো লাগে যখন দর্শক আমাকে আমার ক্যারেক্টার দিয়ে চেনে। ফ্যাঁকড়া যদি দর্শকের কাছে ভালোভাবে পৌঁছায়, তাহলে আমাকে সবাই গোলাপি বলেই ডাকবে।

এ সিরিজে আপনি গোলাপি হয়ে উঠলেন কীভাবে?

এটা আমার জীবনের প্রথম কাজ, যেটার স্ক্রিপ্ট সম্পূর্ণ না পড়েই হ্যাঁ বলে দিয়েছি। একদিন আমি পার্থ, প্রান্ত আর আসিফ ভাই একসঙ্গে গল্প করছিলাম। ওরা ফ্যাঁকড়ার গোলাপি চরিত্রের জন্য অভিনেত্রী খুঁজছিল। আমি তখন আসিফ ভাইকে বলেছি যে ভাইয়া আমি কি গোলাপির অডিশনটা দিতে পারি। তখন ভাই বললেন, তিনি আমাকে এক বছর আগে থেকেই গোলাপির জন্য ভেবে রেখেছিলেন।

তখন জানলাম, ফ্যাঁকড়ার স্ক্রিপ্টিংয়ের সময় গোলাপিকে আদুরে, সহজ সরল, দেখতে একটা গোলাপের মাতো চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু আমি তো এমন নই, তারা যেমনটা চাচ্ছিলেন। তাই আসিফ ভাই ও তাদের টিম আমাকে গোলাপিতে ভাবতে পারছিলেন না। পরে আসিফ ভাই বললেন, পার্থ আর নিদ্রা তোরা পাশাপাশি বস তো। আমি পাশাপাশি বসার পর আমাকে মাথায় কাপড় দিতে বলেন এবং ছবি তুলেন একটি। ভাই বললেন, মানাবে মনে হয়।

এর পর আমি আসিফ ভাই আর পার্থ (শেখ) ডিনার করছিলাম। আসিফ ভাই আমার খাওয়া দেখেই বলেন, ‘তুমিই আমার সিরিজের গোলাপি হতে পারবে।’ সিরিজে গোলাপি গ্রামের মেয়ে। আমার খাওয়ার মধ্যে কোথাও একটা সারল্য ছিল, সেটাই হয়তো তার মনে ধরেছে। পরে চিত্রনাট্য পাই, সিরিজটির সঙ্গে যুক্ত হই।

সিরিজটিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করতেন।

এখানে অভিনয় করতে আমার কোনো মেকআপ করতে হয়নি, কারণ আমার চরিত্রটাই ছিল এমন। এটা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সিরিজের অ্যাক্টিং যখন শুরু করি, প্রথম সিন আমাকে দিয়ে শুরু হয়েছে। তখনো ফ্যাঁকড়া টিম নিশ্চিত হতে পারছিল না যে নিদ্রা কতটা ফিডব্যাক দিতে পারবে। সিনটা ছিল টানা-হ্যাঁচড়ার। এ সিন দেয়ার কারণে আমার হাতে তিনদিন রক্ত জমাট ছিল। কারণ সিনটিতে আমাকে কয়েকজন মিলে টানা-হ্যাঁচড়া করে নিয়ে যাচ্ছিল। এ ধরনের চরিত্র এর আগে কখনো করিনি, যার কারণে এটা আমার জন্য একটু কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ছিল।

এ সিরিজে অভিনয় করতে গিয়ে পুরো টিমকে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে?

একদিন সকাল ৭টায় শুরু করে তার পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা শুটিং করেছি। পুরো সিরিজে সবাই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আসিফ ভাইয়ের কাজের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমরা সবাই যার যার জায়গা থেকে নিজের সবটুকু দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ‘দাওয়াল’ ও ‘নীল জোছনা’। সিনেমা দুটির কী খবর?

দাওয়াল সিনেমার শুটিং এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শন হবে। এটা বাংলাদেশেও জমা দেয়া হয়েছে। নীল জোছনায় বড় বড় অভিনয়শিল্পী আছেন। এ সিনেমারও ৮০ ভাগ কাজ শেষ আর কিছু কাজ বাকি আছে। কাজটা অতি দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে এবং খুব দুর্দান্ত হবে, কারণ বাংলাদেশের বাঘা বাঘা অভিনয়শিল্পী ওই সিনেমায় আছেন। এছাড়া আরো একটি সিনেমায়ও কাজ করার কথা আছে।