এর অনেক আগেই নির্মাণ করেছিলেন প্রথম সিনেমা ‘ফিরে এসো বেহুলা’। তবে সব হিসাব বদলে দেন গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘উৎসব’ দিয়ে। নগরের সিনেমা হলে পরিবারকে ফিরিয়ে আনে এ সিনেমা। চার্লস ডিকেন্সের গল্প বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপান্তর করে নির্মাণ হয়েছিল উৎসব। এবার তিনি হyমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সে সিনেমা ও ঈদ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপ হলো তানিম নূরের, সঙ্গে ছিলেন মাহমুদুর রহমান
আপনার ঈদের দিন কী করে কাটে?
আমার জন্ম ঢাকায়, শ্যামলীতে। আমি ঈদ বরাবর ঢাকায়ই করি, ভাইবোনদের সঙ্গে। খুব সাধারণভাবে কাটে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি বন্ধুদের সময় দিই। সকালে তেমন কিছু করা হয় না। দুপুরের দিকে হয়তো বোনের বাসায় যাই। সন্ধ্যা আর রাতের সময়টা বন্ধুদের জন্য।
এবার তো সে রকম থাকবে না নিশ্চয়ই?
না, এবার তো খানিকটা বদলাবেই। আসলে গত ঈদ থেকেই বদলেছে। অপেক্ষা থাকে। এবারো থাকবে যে দর্শক কী রকম গ্রহণ করলেন বনলতা এক্সপ্রেসকে।
আপনি কি থিয়েটার, সিনেমা হলে যাবেন?
ঈদের দিন যাব কিনা তা এখনো নিশ্চিত না। যদি মনে হয়, তাহলে একটু ঘুরে আসতে পারি। এখনো ঠিক করিনি। আসলে মুক্তি দেয়ার পর সিনেমাটা আর পরিচালকের না, সিনেমাটা দর্শকের। ভালো-মন্দ তারা বলবে।
তবে আপনার যাওয়া উচিত। কেননা উৎসবের পর সবাই এটাই বলে যে পুরো পরিবার নিয়ে দেখার মতো সিনেমাই নির্মাণ করছে তানিম নূর।
আমার এ রকমই ইচ্ছা ছিল। মানে ফ্যামিলি অডিয়েন্সের জন্য সিনেমা নির্মাণ করা। কেননা ফ্যামিলি যদি হলে না যায়, তাহলে সিনেমা দেখার আনন্দটা থাকে না। আমি ছোটবেলায় আমার পরিবারের সঙ্গে হলে গিয়েছি। একটা সময় সেটা কমে গেল। আমি এ সিনেমাও বানিয়েছি যেন ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি হয়। দুটো সিনেমা আসলে এ রকম চিন্তা থেকেই করা।
কিছুক্ষণকে বেছে নিলেন কেন?
আমি চাচ্ছিলাম, হyমায়ূন আহমেদ স্যারের কোনো একটা উপন্যাস নিয়ে কাজ করতে। উৎসব মুক্তির মাসখানেক পর আমরা আলাপ করছিলাম যে কী করা যায়। তখন আমার রাইটার স্বাধীন এ বই দিয়ে বলল যে এটা ভালো গল্প, এটা থেকে সিনেমা করা যায়। আমার বিশ্বাস ছিল, হyমায়ূন আহমেদের সব বই আমি পড়েছি। কিন্তু খেয়াল করলাম যে এটা পড়া হয়নি। ওই দিনই বইটা পড়ে ফেলি। স্বাধীন অবশ্য গল্পটা আগেই বলেছিল। ট্রেনের ভেতরের গল্প। তো জিনিসটা আমার ভালো লেগেছে।
ট্রেনটাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করল?
হ্যাঁ, সেটা করেছে। সঙ্গে উপন্যাসের গল্প আর চরিত্রগুলোও দারুণ। তবে ট্রেনের বিষয়টা বেশি আকর্ষণ করেছে। বিশ্বে অনেক সিনেমা হয়েছে ট্রেনকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের অনেক সিনেমায়ও ট্রেনের ব্যবহার আছে। মানে ট্রেনের ওই স্পেসটাকে ব্যবহার করা হয়েছে। সিনেমা তো আসলে টাইম অ্যান্ড স্পেসের গল্প। কোন স্পেসে গল্পটা আছে সেটা জরুরি। এ গল্পে সেটা আছে। পাশাপাশি একটা ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি এবং উপভোগ্য গল্প। হyমায়ূন স্যারের গল্প যে রকম হয়। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছিল আমার।
কাজ কবে শুরু হলো? লেখা থেকে শুটিং...
একটা আশ্চর্যের বিষয় হলো কাজটা খুব অল্প সময়ে হয়েছে। আমি নিজেই আশ্চর্য হই মাঝে মাঝে। একটা সিনেমা তো বেশ দীর্ঘ প্রসেস। এ সিনেমার আইডিয়া নিয়ে আলাপ হয় জুলাইয়ের দিকে। তারপর আগস্টে চিত্রনাট্য লেখা শুরু হয়। ট্রেনের সেটটা বানানো দরকার ছিল। এ লেখা, সেট বানানো সব সমান্তরালে চলছিল। আমরা ডিসেম্বরে শুটিংয়ে যাই। নভেম্বরে সেট বানানো শুরু হয়। এটাও একটা বড় কাজ ছিল। এফডিসির ২ নম্বর ফ্লোরে পুরো কাজটা হয়েছে। ওখানেই ১৪ দিন শুট করেছি আমরা।
এখানে আরেকটা জিনিস উল্লেখ করার মতো। আামাদের দেশে আর্ট ডিরেকশন এখন ভালো হচ্ছে। বাইরে আরো বড় পরিসরে কাজ হয়। কিন্তু আমরা আমাদের মতো করে ভালো কাজ করছি।
এর মধ্যে অনুমতি নেয়ার একটা বিষয়ও তো ছিল। গল্পের কপিরাইট নিতে হয়েছে।
খুব সহজেই হয়ে গেছে। শাওন আপা, নুহাশ হyমায়ূন ওনারা খুব হেল্পফুল ছিলেন। আমি ওনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
শুটিংয়ের বিষয়ে আসি। শুটিংয়ের সময়টা কেমন গিয়েছিল?
খুব ভালো। কলাকুশলীরা সবাই একত্রে কাজ করেছেন। ডেডিকেটেডলি কাজ করেছেন। অনেক সময় সেটে অনেক রকম ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটে, সেসব কিছু হয়নি। তাড়াতাড়ি কাজ হয়ে যাওয়ার এটাও একটা কারণ। আর হ্যাঁ, টিমওয়ার্ক। সবাই মিলে কাজ করার কারণেই কাজটা দ্রুত হয়েছে।
এত বড় টিম, তারকাবহুল সিনেমা। সব সামলানোর চাপ কেমন ছিল?
আমি আসলে এটাকে চাপ মনে করি না। তারকারা তো আসলে শিল্পী। তারা মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করেন। ফলে কোনো সমস্যা আমার অন্তত হয় না। এর আগেও আমি ফিরে এসো বেহুলা যখন করি ২০০৯ সালে, সেখানে জয়া আহসান, ইন্তেখাব দিনার, হুমায়ুন ফরীদি, মামুনুর রশীদ, রাইসুল ইসলাম আসাদ অভিনয় করেছিলেন। কখনো চাপ মনে হয়নি। তারাও পেশাদার ছিলেন, আমিও ছিলাম। এর বাইরে যেটা বললাম, পুরো টিমটা একত্রে নিজেদের মনে করেই কাজটা করেছে।










