মঞ্চের পরিচিত মুখ জুয়েল জহুর। নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘ সময়। ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন করেন তিনি। সম্প্রতি বঙ্গতে মুক্তি পাওয়া কানাগলি ওয়েব সিরিজে বান্টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা। এ সিরিজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
কানাগলিতে আপনার কাস্টিং কীভাবে হয়েছে?
কানাগলির কাস্টিং আমার কলকাতায় বসে হয়েছে। ডিরেক্টর প্যানেলের সঙ্গে দেখা হয়। তারপর আলোচনা হতে হতে দেশে এসে কাজ করা।
কানাগলির মাধ্যমে ওটিটিতে আপনার অভিষেক হলো। অনুভূতি জানতে চাই?
ওটিটি প্লাটফর্মে অভিষেক খুবই দারুণ। ওটিটির কাজ আসলে অনেক যত্ন নিয়ে করা হয়। গল্পটাকে ধরে ক্যারেক্টারটাকে বের করার চেষ্টা করা হয়।
কানাগলিতে আপনার চরিত্র নিয়ে যদি জানাতেন?
কানাগলিতে আমার চরিত্রের নাম বান্টি। ছেলেটা চিত্রনাট্য করে, ফিল্মের গল্প লেখে। দারুণ একটি গল্প, কিন্তু স্ক্রিপটা হারিয়ে যায়। দেশে তখন নানা রকম খুন হতে থাকে, যেটা স্ক্রিপ্টের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, তাকে সন্দেহভাবে গ্রেফতার করে। পুলিশ বুঝতে পারে খুনের সঙ্গে বান্টি জড়িত না, আসল খুনিদের খোঁজার চেষ্টা করে ধরতে না পেরে বান্টির কাছে আবার আসে।
রহস্য খুনের সঙ্গে এ রাইটার দারুণভাবে জড়িয়ে পড়ে, যা আমার ক্যারেক্টারের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে গল্পটা এগোয়, যা এককথায় ফ্যান্টাস্টিক...
কমার্শিয়াল সিনেমায় নিয়মিত হচ্ছেন কবে?
সব সিনেমাই কমার্শিয়াল। ভালো ও বড় প্রজেক্টে কাজ করতে চাই, আমাকে বেজ করে গল্পের গাঁথুনি হবে, এমন গল্পে কাজ করতে চাই। আর বাকিটা নির্ভর করছে যারা নির্মাণ করবেন তাদের ওপর।
আপনি কোন চরিত্রে অভিনয় করতে বেশি আগ্রহী?
আমার কাছে অভিনয়টাই মুখ্য। অভিনয়টা করে যেতে চাই। গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি দর্শকের হাতে।
আপনার অভিনয় ক্যারিয়ারে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কিনা?
প্রথমে চারদিকেই ছিল নেগেটিভ ভাইব। ফ্যামিলি, ফ্রেন্ডস এমনকি অনেক ডিরেক্টরকেও বলতে শুনেছি, আয়নায় নিজের চেহারা দেখেছ...?
তোমাকে দিয়ে আর যা-ই হোক অভিনয় হবে না... সবাইকে বিশ্বাস করানোটাই ছিল বড় প্রতিবন্ধকতা....
এসব থেকে বের হলেন কীভাবে?
প্রতিবন্ধকতা দূর করার অনেক পদ্ধতি হয়তো আছে, কিন্তু আমি মনে করি অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রতিবন্ধকতা অভিনয়ের মাপকাঠিতেই দূর করতে হয়। তাই চাওয়ার দৃঢ়তা, আমার বুকশেলফের বইগুলো, নাগরিক নাট্যাঙ্গনে যুক্ত হওয়া, এগুলোই সমস্যা ইগনোর করে এগিয়ে যাওয়ার পথে আমার বন্ধু ছিল...
নাটক-সিনেমায় সিন্ডিকেট কাজ করে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। সে জায়গা থেকে আপনি কখনো সিন্ডিকেটের শিকার হয়ছেন কি?
সিন্ডিকেটের দেয়াল এত শক্ত যে ঢুকতেই পারিনি (হাসি)। যতটুকু এসেছি বারবার নিজেকে প্রমাণ করেই এসেছি। সেটা হোক আমার প্রথম সিনেমা নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণে নাম ভূমিকায় অভিনয় কিংবা বঙ্গতে রিলিজ পাওয়া ওয়েব সিরিজ কানাগলিতে বান্টি হয়ে ওঠা।
আগামীতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আমি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুণী ও ডিমান্ডেবল অভিনেতা হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই—সবসময়ে, সব বয়সে।
সামনে আপনার কী কী কাজ আসছে?
বঙ্গতে কানাগলি স্ট্রিমিং হয়েছে। দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়—বকুল কথা ও নাদান। আর শুটিং চলছে শাপলা শালুক সিনেমার। হাতে আছে ওটিটির বেশ কয়েকটি কাজ ও একটি সিনেমা। সবগুলোর টাইম শিডিউল মিলিয়ে কাজে নামব শিগগিরই।










