এটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের বেশ প্রশংসা পেয়েছে। রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে দেলুপির টিম গিয়েছিল নেদারল্যান্ডসে। সে অভিজ্ঞতা নিয়ে উৎসব চলাকালীন রটারড্যাম থেকে তাওকীর ইসলাম যুক্ত হয়েছিলেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান

রটারড্যামের দিন কেমন কেটেছে?

রটারড্যামে খুবই সুন্দর সময় কেটেছে। সেখানে মোট ১২ দিন ছিলাম। এ ধরনের আসরে এই প্রথমবার যাওয়া। প্রথম সিনেমা নিয়ে এত বড় একটি আয়োজনে অংশ নিতে পারা, এ অভিজ্ঞতা এক কথায় বলা কঠিন। তবে সব মিলিয়ে সময়টা খুবই ইন্টারেস্টিং ছিল।

চলচ্চিত্র উৎসবটিতে গিয়ে ফার্স্ট ইম্প্রেশন কী ছিল?

এই ফেস্টিভ্যালে একাধিক ইভেন্ট আর ভেন্যু থাকে। আমাদের সবকিছু বুঝতেই প্রথম দুদিন লেগেছে। কী হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, কোথায় যেতে হবে, কী করতে হবে সব মিলিয়ে মানিয়ে নিতে একটু সময় লেগেছে। এটি খুবই ওয়েলকামিং একটি ফেস্টিভ্যাল। সবাই একে অন্যকে আপন করে নেয়। পুরো আয়োজনটিই খুব ইন্টারেকটিভ ছিল।

এ চলচ্চিত্র উৎসবগুলোয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন ছাড়াও তো ইভেন্ট থাকে, সেসব নিয়ে জানতে চাই।

ফেস্টিভ্যালে নানা ধরনের ইভেন্ট ও সেশন থাকে, সেগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। সিনেমা ডিস্ট্রিবিউশন এবং ওয়ার্ল্ড মার্কেটে কীভাবে কাজ হচ্ছে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। বিভিন্ন টপিকের ওপর ইন্টারেকটিভ সেশন হয়। পাশাপাশি প্রচুর কমিউনিকেশন পার্টির আয়োজন থাকে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির দারুণ সুযোগ পাওয়া যায়।

47

তাহলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সিনেমা বিদেশে কতটা পরিচিত?

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বেশ ভালো পরিমাণ সিনেমা এসেছে এবং বড় বড় আসরে সেগুলো যাচ্ছে। এবারো এ উৎসবে বাংলাদেশ থেকে তিনটি সিনেমা গেছে। এর মধ্যে ‘রইদ’ ছিল টাইগার কমপিটিশনে। ‘মাস্টার’ বিগ স্ক্রিন বিভাগে বেস্ট ফিল্ম পুরস্কার পেয়েছে। দেলুপি ছিল ব্রাইট ফিউচার বিভাগে। এটি খুবই ইতিবাচক যে বাংলাদেশী সিনেমা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করছে। বিশ্বের বড় বড় নির্মাতার সিনেমার সঙ্গে একই স্ক্রিনে আমাদের সিনেমা প্রদর্শিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমাদের একেবারে নতুন করে পরিচিত হতে হয় না। বাংলাদেশের অনেক নির্মাতাকেই তারা চেনে, আমাদের সিনেমা সম্পর্কেও তাদের ধারণা আছে।

রটারড্যামে দেলুপির খাতিরদারি কেমন হলো?

আমরা কখনো আশা করিনি যে মানুষ দেলুপির সঙ্গে এতটা কানেক্ট করবে। আমাদের চারটি স্ক্রিনিং হয়েছে। দর্শক সিনেমাটির সঙ্গে কানেক্টে করতে পেরেছে। হলভর্তি দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করেছে। সেখানে গিয়ে অনেক নতুন বন্ধু পেয়েছি। দেশের মানুষও খবর পেয়ে সিনেমাটি দেখতে গেছে। বাংলাদেশী দর্শকের পাশাপাশি সেখানকার দর্শকও সিনেমার সঙ্গে কানেক্টেড অনুভব করেছে।

দেলুপি নিয়ে আর কোথাও যাচ্ছেন?

এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ফেস্টিভ্যাল থেকে সিলেকশনের কনফার্মেশন আসেনি। তবে আমাদের পরিকল্পনায় ছিল না, এমন কিছু ফেস্টিভ্যাল থেকেও সাড়া পেয়েছি। সেখানে বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ডিরেক্টর বা প্রোগ্রামাররা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অনেকে সিনেমা দেখে যোগাযোগ করেছেন। ই-মেইল করেছেন, তারা সিনেমাটি প্রদর্শন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দেলুপি টিমের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা জানতে চাই। কোনো মজার ঘটনা বা এমন কিছু...

মজার অভিজ্ঞতার শেষ নেই। একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। আমরা যেদিন বাংলাদেশ থেকে রওনা দিই, সেদিন আমাদের একটি ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল। বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ায় আমরা ট্রানজিট ফ্লাইট মিস করি। দোহায় ফ্লাইট মিস করায় মনটা খুব খারাপ হয়েছিল। তবে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ আমাদের কাতারের ভিসা ম্যানেজ করে দেয় এবং একটি হোটেলের ব্যবস্থাও করে। রাতে তারা জানায়, চাইলে আমরা একটি সিটি ট্যুরে অংশ নিতে পারি। আমরা সবাই মিলে দোহা ঘুরে দেখি। সেটি খুবই ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতা ছিল। সেখানে গিয়ে বেশ আনন্দ করেছি। এটি অবশ্যই মনে রাখার মতো একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।

আরেকটি মজার অভিজ্ঞতা হলো, ২৯ জানুয়ারি যখন প্রথম ফেস্টিভ্যাল ভেন্যুতে যাই, তখন আমাদের রেজিস্ট্রেশনসহ সব ফরমালিটি সম্পন্ন করতে হয়। আমরা ভেন্যুতে ঢুকতেই দেখি, একজন বয়স্ক মহিলা ও আরেকজন আমাদের দেলুপির পোস্টার লাগাচ্ছেন। আমরা ভেতরে ঢোকার সময়ই পোস্টারটি লাগানো হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। পরে গিয়ে বলি, এটি আমাদের সিনেমা। তখন তারাও বেশ অবাক হন, এমন কাকতালীয় ঘটনা দেখে। তারা আমাদের সেখানে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলেন। ফেস্টিভ্যালের প্রথম সেই ওয়েলকামটা সত্যিই খুব ইন্টারেস্টিং ছিল।