প্রথমবার বড় বাজেটের ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী ও মডেল সারিকা সাবাহ। এর আগে বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন, তবে এবারই প্রথম একটি বড় আয়োজনের সিরিজে কাজ করছেন। সিরিজটির নাম ‘গুলমোহর’, যা পরিচালনা করেছেন ‘কারাগার’খ্যাত নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকী। এ সিরিজে তার অভিনয় ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
১৫ মে চরকিতে মুক্তি পেয়েছে গুলমোহর, সিরিজটি নিয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন। মুক্তির পর সিরিজটি নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
গুলমোহর সিরিজে কাজ করার অভিজ্ঞতা চমৎকার ছিল, তাই অপেক্ষা করছিলাম কবে রিলিজ পাবে। অনেক দিন পর আমার নতুন কাজ এল, দর্শক সিরিজ ও আমার কাজের অনেক প্রশংসা করছে।
দীর্ঘদিন পর কাজে ফিরে নতুন সিরিজে অভিনয় করলেন, কেমন লাগছে?
এ সিরিজের গল্প একটা পরিবার নিয়ে। যেখানে পরিবারের মধ্যে জমিজমাসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা থাকে। এটি পারিবারিক রহস্যঘেরা একটি সিরিজ। দীর্ঘদিন ফিকশনে কাজ করা হয়নি। গুলমোহরের কাজ এক বছর আগে হয়েছিল। ওটিটিতে একটা ভালো কাজ নিয়ে আসার ইচ্ছা ছিল, গুলমোহরের মাধ্যমে সেটা হয়েছে।
গুলমোহরে আপনার চরিত্র নিয়ে যদি জানাতেন?
সিরিজে আমি শান্তা ক্যারেক্টার প্লে করেছি। এ ধরনের ক্যারেক্টার আর কখনো করিনি। এটা একটা ম্যাচিউর ক্যারেক্টার।
দীর্ঘদিন পরে এসে গুলমোহরে যুক্ত হলেন কীভাবে?
আমি ফিকশনে কাজ করা বন্ধ করার পর টিবিসি করছিলাম। বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে একদিন শাওকী ভাইয়ের টিম থেকে কাস্টিং ডিরেক্টর তানিয়া আপু আমাকে কল দিয়ে জানান শাওকী ভা্ই একটা সিরিজ করছে, সেটার একটা চরিত্রের জন্য আমাকে অডিশন দিতে। এর দুদিন পর অডিশন দিই। তারপর শাওকী ভাইয়ের টিমের সঙ্গে গুলমোহরে কাজ করা।
কেমন অভিজ্ঞতা ছিল এ সিরিজে কাজ করে?
এটাই প্রথমবারের মতো ফুল টিমের সঙ্গে কাজ করা আমার। দিনার ভাই ছাড়া আমার কো-আর্টিস্টদের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করেছি। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা সবসময় ভালো হয় এবং এতে নতুন কিছু থাকে। একটা নতুন টিমের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি। অনেক শিল্পীর অভিনয় আমি নতুনভাবে এক্সপ্লোর করলাম, এটা আমার জন্য একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা।
নতুন টিমের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন কিনা।
শাওকী ভাই আর্টিস্টদের নিজের চরিত্রে নিজের মতো করে অভিনয় করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। চ্যালেঞ্জ ছিল আমার ক্যারেক্টারটাই। কারণ আমি একটা ম্যাচিউর ক্যারেক্টার প্লে করেছি। চরিত্রে নিজেকে কতটা প্রমাণ করতে পারব, এটাই চ্যালেঞ্জ ছিল। এছাড়া তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না।
শাওকীর পরিচালনায় আপনি কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কাজ করলেন, কেমন লাগছে?
আমি শাওকী ভাইয়ের ‘তাকদীর’ ও ‘কারাগার’ দেখে তার ফ্যান হয়ে যাই। আমার সবসময় ইচ্ছা থাকে ভালো কাজ করব, নতুন গল্পে কাজ করব। শাওকী ভাই যে ধরনের গল্প করেন, সেগুলো আমার খুব ভালো লাগে। অবশ্য সব আর্টিস্টেরই ইচ্ছা আছে শাওকী ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার। আমি যেহেতু তার সিরিজে কাজ করতে পেরেছি, এটা আমার জন্য ভালো একটা অভিজ্ঞতা। আমার অনেক ভালো লেগেছে শাওকী ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করে।
বললেন এ সিরিজে আপনার চরিত্রটা ম্যাচিউর, এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?
প্রতিটা সিন অন্য আর্টিস্টদের সঙ্গে রিহার্সাল করতে হয়েছে। টিমের সবাই একে অন্যকে সাপোর্ট করেছে। যার যার কাজ সে নিজেই করেছে। তাই এখানে আমাকে শুধু অভিনয়টাই করতে হয়েছে। গুলমোহরে প্রেশার ফ্রি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। প্রস্তুতিও ভালো ছিল।
নাটকে আপনাকে অনেক দিন দেখা যায় না, কারণ কী?
ভালো গল্প আর ভালো ডিরেকশনের অপেক্ষা করছিলাম। নাটক আসলে বন্ধ করিনি। ভালো গল্প পেলে কাজ করব।
বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আমি বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছি। টিবিসি করছি। এ মুহূর্তে হাতে নতুন কাজ নেই।
বড় পর্দায় আসার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা।
বড় পর্দায় কাজ করার ড্রিম সব আর্টিস্টেরই থাকে। ওটিটিতে মাত্র কাজ শুরু করলাম। একটা বড় প্রজেক্টে কাজ করতে পারলাম। সামনে যদি এমন সুযোগ পাই যে আমার সঙ্গে গল্প মিলছে, ভালো পরিচালক বা ভালো গল্পে কাজ কাজ করার সুযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই বড় পর্দায় দেখা যাবে।
ওটিটি প্লাটফর্ম, টিভি নাটক, ইউটিউব নাটকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
আমার মনে হয় বর্তমানে দর্শক তৈরি হচ্ছে। ইউটিউবে দর্শক নাটক দেখছে। ওটিটির কাজগুলো হিট হচ্ছে। মানুষ কনটেন্ট নিয়ে কথা বলছে। সব মাধ্যমেই এখন দর্শক আছে। দর্শক বেশি তৈরি হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য একটা পজিটিভ সাইন।










