গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হন। এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে নুসরাত ফারিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন।

কামিশপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কারাগারে নুসরাত ফারিয়ার জামিনের কাগজপত্র এসে পৌঁছেছে। যাচাই বাছাই শেষে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হয়।

এর আগে, থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময় রোববার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতারের পর রাতে নুসরাত ফারিয়াকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রাখা হয়। পরে গতকাল সকাল ৯টার দিকে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানায় নেয়া হয়। ঘণ্টা খানেক বাদে তাকে এজলাসে নেয়া হয়। এ সময় তার মাথায় ছিল পুলিশের হেলমেট। পরেছিলেন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। নারী পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে কড়া পাহারায় নুসরাত ফারিয়া সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় ওঠেন। আদালতে নুসরাত ফারিয়াকে বিমর্ষ দেখা গেছে। কাঠগড়ায় ৩০ মিনিট রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আদালতে কোনো বক্তব্য দেননি।

এদিন আদালতে ভাটারা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নায়িকা নুরসাত ফারিয়াকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিল্লাল ভূঁইয়া। এ বিষয়ে শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ সময় নুসরাতের পক্ষে তার আইনজীবী ফারহান মোহাম্মদ আরাভ ও মোর্শেদ আলম শাহিন জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা দাবি করেন, নুসরাত ৯ জুলাই বাংলাদেশ থেকে কানাডা যান। দেশে ফেরেন ১৪ আগস্ট। তিনি আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। এ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। ঘটনার সময় নুসরাত ফারিয়া দেশের বাইরে ছিলেন কিনা, আন্দোলনের পক্ষে পোস্ট করেছেন কিনা এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন বিচারক। প্রতিবেদন পাওয়ার পর জামিনের বিষয়ে ২২ মে ফের শুনানি হবে।