মার্ভেল এখনো তাদের সিনেমা নিয়ে নিরীক্ষা কমাচ্ছে না। একের পর এক তারা নতুন সিনেমা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন করে তারা অ্যাভেঞ্জার্সকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিল। অ্যাভেঞ্জার্স কবে আসবে তা-ও জানানো হয়েছিল, কিন্তু পরিকল্পনায় এসেছে পরিবর্তন। পেছানো হয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: সিক্রেট ওয়ারস’-এর মুক্তি। কথা ছিল ডুমসডে মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১ মে। কিন্তু এখন সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর। অন্যদিকে ২০২৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর ‘সিক্রেট ওয়ারস’ মুক্তির কথা থাকলেও সিনেমাটি মুক্তির নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৭ মে।

‘এন্ড গেম’-এর পর অ্যাভেঞ্জার্স ভেঙে যায়। মার্ভেলের নতুন সিনেমাগুলোও ভালো করতে পারেনি। পাঁচ বছর ধরে বলা যায় ধুঁকছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে এ মাসে মুক্তি পায় মার্ভেলের থান্ডারবোল্টস। মার্ভেলের গত কিছুদিনের বাণিজ্যিক অবস্থা হিসাবে বলা যায় সিনেমাটি বেশ ভালো করেছে। ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’ ততটা করতে পারেনি। কিন্তু তার আগে থেকেই অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছিল। বিশেষত যে সময় প্রকাশ হলো যে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র সিনেমাটিতে থাকছেন, সে সময় থেকে সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরো বাড়ে। এরপর মার্ভেল জানায়, সিনেমায় থাকছেন অ্যাভেঞ্জার্সের পুরনো আরো অনেক অভিনেতা। নিয়মিতই এ সিনেমা নিয়ে বিনোদন গণমাধ্যমে আলোচনা ওঠে। কিন্তু এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার জানানো হলো অ্যাভেঞ্জার্সের দুটি সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু কেবল এ দুই সিনেমারই মুক্তি পেছায়নি। মার্ভেল ও ডিজনির আরো সিনেমার পরিকল্পনা বদলে গেছে। মার্ভেলের ক্যালেন্ডার দেখলে তা বোঝা যায়। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে থাকা ‘আনটাইটেলড মার্ভেল প্রজেক্ট’ সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ৬ নভেম্বর ২০২৬ ও ৫ নভেম্বর ২০২৭-এ থাকা ‘আনটাইটেলড মার্ভেল’ বদলে ‘আনটাইটেলড ডিজনি’ লেখা হয়েছে।

তাহলে ২০২৬ সালে মার্ভেলের কী কী সিনেমা আসছে?

অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে থাকছে। সেই সঙ্গে থাকছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।

তবে কভিড-১৯ মহামারীর পর মার্ভেল তাদের ফিচার ফিল্মের ক্ষেত্রে বেশ বিরতি রাখছে। যেমন এ বছর জুলাইয়ে মুক্তি পাচ্ছে ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’। এর প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই মুক্তি পাবে টম হল্যান্ড অভিনীত স্পাইডার-ম্যানের চতুর্থ সিনেমাটি। এর আগে ২০১৯ সালে ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ মুক্তির দুই বছর পর মুক্তি দেয়া হয়েছিল ‘ব্ল্যাক উইডো’।

অ্যাভেঞ্জার্স পেছানোর কারণ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। শুটিং বা অন্য কোনো কারণে পেছানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকের অনেক রকম মতই আছে। কেউ মনে করছেন, এতে মার্ভেলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ সিনেমা দুটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহের পারদ সহজে নামবে না। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, এতটা দেরি না করলেও হতো। তবে বব ইগারের পরিকল্পনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাণিজ্যবান্ধবই হয়। সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।

সূত্র: ভ্যারাইটি