কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৮তম আসরে রেড কার্পেটে হেঁটেছেন বাংলাদেশী মডেল জেরিন সাদিয়া সোহা। ফ্রান্সের কান থেকে সে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বণিক বার্তাকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌফিকুল ইসলাম
কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে কীভাবে আমন্ত্রণ পেলেন?
আমি একজন পেশাদার মডেল হিসেবে এরই মধ্যে কাজ করেছি প্যারিস ফ্যাশন উইক ও নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মতো বিশ্বের সেরা ফ্যাশন ইভেন্টে। এ অভিজ্ঞতা আমাকে একটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ড ও মিডিয়া আমার কাজের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে হাঁটার আমন্ত্রণ সে পরিচিতিরই ফলাফল। এটি শুধু আমার জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও একটি গর্বের বিষয়।
রেড কার্পেটে হাঁটার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলুন।
প্যারিস ও নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, আন্তর্জাতিক ইভেন্টের জন্য কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। তাই কানের জন্য আমার প্রস্তুতিটাও ছিল পরিকল্পিত ও পেশাদার। আউটফিট, মেকআপ, হেয়ার থেকে শুরু করে স্কিন কেয়ার, ফটোশুট, মিডিয়া হ্যান্ডলিং সবকিছু নিয়ে আমি ও আমার টিম অনেক দিন ধরে কাজ করেছি। এটা শুধু একটা রেড কার্পেটের মুহূর্ত নয়, এটা একটি আন্তর্জাতিক স্টেটমেন্ট।
কার ডিজাইন করা পোশাক পরে এ রেড কার্পেটে হাঁটলেন?
আমি কানের রেড কার্পেটে পরেছি কসোভোর বিখ্যাত ডিজাইনার জোনার ডিজাইন করা এক্সক্লুসিভ একটি গাউন। তার কাজের মধ্যে একটা ইউনিক কালচারাল টাচ আছে, যা আমার আগের প্যারিস ফ্যাশন উইকের স্টাইলিং অভিজ্ঞতার সঙ্গেও রিলেট করে। পোশাকটি হাতে তৈরি এবং এর প্রতিটি ডিটেইলে রয়েছে শিল্প, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেল। একেবারে আমার ব্যক্তিত্ব ও প্রেজেন্সের সঙ্গে মানানসই।
রেড কার্পেটে আপনার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য কতটা ইতিবাচক?
আমি বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক এ প্লাটফর্মে একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমার উপস্থিতি একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় আমরাও গ্লোবাল ফ্যাশন ও কালচারের অংশ হতে পারি। প্যারিস ও নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের পর এবার কানে থাকা মানে বাংলাদেশের নাম আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয়া। আমি চাই আমার এ পথচলা নতুনদের আরো অনুপ্রেরণা দিক, যাতে তারা বুঝতে পারে স্বপ্ন দেখলে সেটাকে ছুঁয়েও ফেলা যায়।
কানের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলুন।
আমার কানের অভিজ্ঞতা সত্যিই অবিস্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর। এ প্রথমবার কানের রেড কার্পেটে হাঁটার সুযোগ হলো আমার, সে মুহূর্তটা ছিল একেবারেই স্বপ্নের মতো। আমি ‘এক্সিট ৮’ নামক একটি মুভির প্রিমিয়ারে অংশ নিয়েছিলাম। এটি একটি ভৌতিক রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্র, যেখানে একজন বাবা ও তার সন্তানের ভালোবাসার এক অনন্য গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমবার রেড কার্পেটে হাঁটার সময় কিছুটা নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু সেটি যেন পুরো অভিজ্ঞতাকে আরো বিশেষ করে তুলেছিল। অনেক আন্তর্জাতিক সেলিব্রেটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং সবার মাঝে নিজেকে তুলে ধরতে পেরে আমি গর্বিত বোধ করছি।
সব মিলিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবের এ অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। এটি আমাকে আরো অনুপ্রেরণা দিয়েছে এবং আমার ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ আপনার ক্যারিয়ারে কী সংযোজন করবে?
কান উৎসব আমার ক্যারিয়ারের একটি মাইলস্টোন। প্যারিস ও নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক আমাকে ফ্যাশনের আন্তর্জাতিক ভাষা শিখিয়েছে, আর কান আমাকে সে পরিচিতিকে আরো গভীর ও বিস্তৃত করার সুযোগ দিয়েছে। এটা শুধু ফ্যাশনের না, বরং আর্ট, সিনেমা ও কালচারের একটা মিলনমেলা। এ প্লাটফর্মে থাকা মানে নতুন গ্লোবাল কানেকশন, নতুন প্রজেক্ট, আর নতুন দিগন্তের সূচনা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলুন
আমি শুধু ফ্যাশনের রঙিন জগতের অংশ হতে চাই না, আমি চাই বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ হোক—হোক সেটা রেড কার্পেট, ক্যাটওয়াক কিংবা যেকোনো গ্লোবাল মঞ্চে।










