সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন।সর্বসম্মতিক্রমে এ শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, সংসদের সাবেক উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা রোজী কবির, সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, দেশের প্রথম সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম), সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা, সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম, মোস্তফা মোহসীন মন্টু, আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ ৩১ জন এমপি ও ২৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির স্মরণে এ শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিনি কখনোই আপস করেননি। এমনকি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কোনো নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। বরং তার দূরদর্শী ভূমিকার কারণেই দেশে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।
খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেন—এ কথা উল্লেখ করে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, তার দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে তাকে অন্যায়ভাবে বের করে দেয়া হয়। বিএনপি অফিসের সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে তাকে অফিস থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। খালেদা জিয়া দেশের স্মরণীয়, অনুকরণীয় ও সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন।
মনমোহন সিংকে স্মরণ করে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, তার মৃত্যুতে ভারত একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারিয়েছে। তার শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাষান্তর করে তার পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
খামেনির শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী বাহিনীকে তিনি আধাসামরিক বাহিনী থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। কঠোর নীতির কারণে খামেনির শাসন দেশের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের সম্মুখীন হলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তা মোকাবেলা করেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ব একজন মহান নেতা, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় নেতাকে হারিয়েছে।
মতিয়া চৌধুরীর শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতির মাধ্যমে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচার ও আহতদের সেবায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ইডেন কলেজে অধ্যয়নের সময় ষাটের দশকে আইয়ুব সরকারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।










