দিনাজপুরের বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। সেলফোন হারালে সোজা তার কাছে ছুটে আসে মানুষ। এই পুলিশ কর্মকর্তা গত তিন মাসে ২৫টি সেলফোন উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছেন তিনি। তবে এতে ওসি মনিরুজ্জামানের কাজের চাপও কিছুটা বেড়েছে। কারণ আশেপাশের জেলার মানুষও এখন তার কাছে আসতে শুরু করেছে। তবে মানুষের উপকার করতে পারায় কাজটি বেশ উপভোগ করছেন তিনি।

হিলির পাউশগাড়া ফাজিল মাদ্রাসার সুপার মামুনুর রশিদ জানান, স্থানীয় বাজারে মনের ভুলে তার দামি সেলফোনটি রেখে এসেছিলেন। পরে গিয়ে আর খুঁজে পাননি। ফোনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছিল। এ কারণে সেলফোনটি হারিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। বিরামপুর থানার ওসির মোবাইল ফোন উদ্ধারের সফলতার কথা শুনে থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আসেন তিনি। এক সপ্তাহ পর ওসি গোবিন্দগঞ্জ থেকে সেলফোনটি উদ্ধার করে তার কাছে ফিরিয়ে দেন। 

হারিয়ে যাওয়ার দুই মাস পরও সেলফোন ফিরে পেয়েছেন সোনালী ব্যাংক বিরামপুর শাখার কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে ফোনটি হারিয়ে যায়। কখনও ভাবিনি ফোনটি ফিরে পাবো। বন্ধুদের কাছে বিরামপুর থানার ফোন উদ্ধারের খবর পেয়ে থানায় জিডি করি। এক মাস পার হওয়ার পরও কোনো খবর না পেয়ে আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। দুই মাস পর হঠাৎ করে বিরামপুর থানার ওসি ডেকে হাতে ফোনটি তুলে দেন।

বাবার কাছে অনেক আবদার করে একটি স্মার্টফোন কিনেছিলেন বিরামপুর উপজেলার কুন্দনহাটের মুর্শিদা আক্তার। দিনাজপুর সরকারি কলেজে অনার্সের শিক্ষার্থী তিনি। দুর্ভাগ্যবশত কেনার কিছুদিনের মধ্যে মুর্শিদা ফোনটি হারিয়ে ফেলেন। ফোনের মেমোরিতে পরিবারের সদস্যদের অনেক আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছিল। খুব শখের ফোন ছিল তার। পরে বিরামপুর থানায় জিডি করেন। কিছুদিন পরেই থানার ওসি ফোনটি উদ্ধার করে মুর্শিদাকে ফিরিয়ে দেয়। 

এ ব্যাপারে বিরামপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মোবাইল ফোন এখন মানুষের জীবনের অত্যাবশ্যকীয় একই সঙ্গে একটি মূল্যবান এবং শখের বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই একটি সেলফোন চুরি বা হারিয়ে গেলে এর মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। দায়িত্ববোধ থেকেই খুব গুরুত্বের সঙ্গে উদ্ধারে তৎপরতা চালাই। 

মোবাইল উদ্ধারে এতোগুলো সফলতার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হচ্ছে। ফোন উদ্ধারে বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকারের তত্বাবধানে এ কাজ করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চুরি যাওয়া ফোনগুলো কয়েকটি হাতবদল হয়। এর কারণে ফোন উদ্ধারের সময় দেখা যায় ওই ফোন ব্যবহারকারী একজন নিরপরাধ ব্যক্তি। বিষয়টি জানার পর ফোন ক্রেতা নিজ দায়িত্বে থানায় ফোনটি ফেরত দিয়ে যান।