বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর অধীনে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মতো রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ফলে বেপজার অধীন ৮টি ইপিজেড ও ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ মোট চালু শিল্পাঞ্চলের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০টি।
বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর প্রথম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বেপজা থেকে প্রথম রপ্তানি অনুমতি পায়। এর ধারাবাহিকতায় ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের টোব্যাকো মেশিনারি ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লিজ টোব্যাকো মেশিনারি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বেপজার সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩.৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এখানে ২৯ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
বর্তমানে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এ শিল্প প্লট বরাদ্দ পাওয়া ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড প্রথম বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করলো। এছাড়া আরো ৩টি প্রতিষ্ঠান অতি শিগগিরই উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করবে এবং বাকি ১৪টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম রপ্তানির মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। এ প্রেক্ষাপটে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি শুরু হওয়া বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি গন্তব্য বহুমুখীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ১ হাজার ১৩৮.৫৫ একর জমির ওপর বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম আরো কার্যকরভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে বৃহৎ এ শিল্পাঞ্চলকে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ নামে দুটি পৃথক জোনে বিভক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে এ দুটি জোনকে পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সরকার।










