কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কর্মিসভা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে। আহতদের ওসমানী হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলেও অনুমতি না পাওয়ায় কোনো পদক্ষেপে যায়নি। সংঘর্ষের জন্য একে অন্যকে দায়ী করেছে।

গতকাল দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ছাত্রলীগের কর্মিসভা আহ্বান করেন সভাপতি আশিকুর রহমান ও সেক্রেটারি এমাদুল হোসেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপ কর্মিসভার বিরোধিতা করে। গতকাল দুপুরে কর্মিসভা চলাকালে সেখানে এসে উপস্থিত হন সহসভাপতি শরীফ হোসাইন, সাব্বির মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক প্রান্ত ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসাইন, আকাশ ভূইয়াসহ তাদের অনুসারীরা। এ সময় উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ চলাকালে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কর্মিসভা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমাদুল হোসেন।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্যাম্পাস ছেড়ে হলগুলোয় গিয়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। এর মধ্যে কিবরিয়া হল সভাপতি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ও বঙ্গবন্ধু হল যুগ্ম সম্পাদক প্রান্ত ইসলাম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শাহপরাণ হলে উভয় পক্ষের কর্মীরা রয়েছেন। কিছুক্ষণ পরপর উভয় গ্রুপের মধ্যে থেমে থেমে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিবদমান দুই গ্রুপের কর্মীদের থামাতে প্রক্টরিয়ার বডির সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।

ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত ইসলাম দাবি করেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটির অন্যদের না জানিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে কমিটি দিতে কর্মিসভা আহ্বান করেছেন। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তা পণ্ড করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে সভাপতি আশিকুর রহমান দাবি করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রলীগকে গতিশীল করার লক্ষ্যে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কর্মিসভা আহ্বান করেছিলেন। প্রতিপক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়ে তা পণ্ড করে দিয়েছে। তিনি জানান, আপতত কর্মিসভা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রক্টর ড. মনিরুল ইসলাম সোহাগ জানান, হলে হলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিবৃত করা হয়েছে। শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।