ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। এ দফায় প্রতি কেজি গ্যাসে দাম বাড়ানো হয়েছে ২১ টাকা। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল এক বিবৃতিতে নতুন এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এর মধ্যে গত এপ্রিলে দুই দফায় দাম বাড়ানোর পর জুন ও জুলাইয়ে দাম কিছুটা কমতির দিকে ছিল। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরেও কেজিতে এলপিজির দাম কমেছিল ১৩ টাকা। চলতি মাসে আবার বড় রকমের উল্লম্ফন দেখা গেল।
দেশের বাজারে তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার চেয়ে এলপিজি সরবরাহ কমেছে। এতে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০-৮০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয় এলপিজির। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ানো হয় ৩৮৭ টাকা। এরপর ১৯ এপ্রিল আবার বাড়ানো হয় ২১২ টাকা। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয় দেশে।
বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। এ হিসেবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে, যা আগে ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা।
সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। অভিযোগ আছে, প্রতিটি সিলিন্ডারে বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা। গ্যাস সংকটে পড়ে অনেকেই বাসায় রান্না করতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
বিইআরসি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে সংস্থাটি।










