বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার ৭৩ শতাংশ ব্যয় মানুষের পকেট থেকে মেটাতে হয়। আর এ ব্যয় বহন করতে গিয়ে প্রতি বছর গড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের বোঝায় দরিদ্র হচ্ছে। আর এর প্রভাবে দেশের মোট দারিদ্র্যের হার চলে যাচ্ছে ২২ শতাংশের ওপরে। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষক ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার। এতে প্রধান ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে।

বাংলাদেশের দরিদ্রতায় দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রভাব বিষয়ক এ প্রতিবেদনে ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার জানান, একটি পরিবারের একজন সদস্য হাসপাতালে ভর্তি হলে গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। আর এ খরচের প্রায় ৫৪ শতাংশ যায় ওষুধের পেছনে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যায় সাড়ে ২৭ শতাংশ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রেও মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ ওষুধের পেছনে খরচ হয়। আর এসব ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে পড়তে হয় আর্থিক সংকটে। এ খরচ বহন করতে গিয়ে ঋণ করে ২৬ শতাংশ পরিবার। আর সম্পদ বিক্রি করে ১৫ শতাংশ। প্রায় ১৯ শতাংশ পরিবার টাকা নেয় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে। ৩২ শতাংশ ক্ষেত্রে সঞ্চয় ভেঙে চিকিৎসা করতে হয়। আর ৬ শতাংশ পরিবার নিয়মিত আয় দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যয় বহন করে থাকে। সব মিলিয়ে ১৭ শতাংশ পরিবারকে বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গ্রামগঞ্জে স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য যাচ্ছি। গ্রামে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের অনেক রোগী দেখতে পাচ্ছি। উপজেলায় এসব রোগের সেবা দিতে পারলে ঢাকার এত রোগী আসতে হবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন চালু করার বিষয়টি আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। বিষয়টি আমি শেষ করে যেতে পারব বলে আশা করছি। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে সামনে পরিস্থিতি কঠিন হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স নিয়ে কাজ করছি। রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন দেয়ার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের যা বরাদ্দ দেয়া হয়, তা ব্যবহার করতে পারলে কম না। আমরা বাজেট ব্যবহার জানি না। এসব নিয়ে আমরা কাজ করব। এক্ষেত্রে সবার সহায়তা প্রয়োজন।’